আগে শৌখিনভাবে ফুলের বাগান করলেও ঢাকার কেরানীগঞ্জে ছাদে এখন অনেকেই বিভিন্ন ফল ও সবজির বাগান করছেন। পরিবারের ফল ও শাকসবজির চাহিদা মেটাতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে শখের ছাদবাগান; বিশেষ করে করোনাকালে কেরানীগঞ্জের তরুণ-তরুণীরা যার যার বাসার ছাদে অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন ছাদবাগান। শুধু ফল বা শাকসবজির চাহিদা মেটাতে নয়, কেরানীগঞ্জের সৌন্দর্যও বাড়ছে এই ছাদবাগানে।
নগরায়নের ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে কেরানীগঞ্জের সবুজের সমারোহ। তবে সেই হারিয়ে যাওয়া সবুজ কেরানীগঞ্জে এখন চোখে পড়ে ছাদবাগানে। ছাদবাগানের মাধ্যমে পরিবেশকে পাল্টে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
চুনকুটিয়ার বাসিন্দা সালমা ফেরদৌসী জানান, বছর দুয়েক আগে শখের বসে তিনি শুরু করেন ছাদবাগান। একটি একটি করে গাছের চারা সংগ্রহ করতে করতে ফুল, ফল ও সবজি মিলিয়ে তার ছাদবাগানে প্রায় ২০০টির মতো গাছ রয়েছে এখন। কোনো ধরনের রাসায়নিক বা কীটনাশক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তার বাগানে নানান জাতের মৌসুমি ফল ও সবজি হয়। বাগানের ফল-সবজি তিনি পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপশি আত্মীয় স্বজনদেরও উপহার দেন। এতে তার পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মিটছে। তার দেখাদেখি আশপাশের অনেকেই ছাদবাগান করছেন। এতে করে পরিবেশে অক্সিজেনের পরিমাণও বাড়ছে।
শুভাঢ্যার বাসিন্দা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহাত উল্লাহ বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন বিশাল শাকসবজির বাগান। রাহাত উল্লাহর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ছাদবাগানের আইডিয়াটা আসে গত মার্চ মাসে লকডাউন চলাকালে। করোনার সময় দীর্ঘ ছুটি থাকায় অবসর সময়টা গাছের চরিত্র, রাসায়নিক সারের বিকল্পসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করি এবং আমার বাসার ছাদে অল্প খরচে বাগান করি, সেই সঙ্গে বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদের ছাদবাগান করার পরামর্শ দিই। বর্তমানে আমার ছাদে প্রায় ৩০ রকমের সবজির গাছ আছে, যেগুলো থেকে নিয়মিত সবজি পাচ্ছি। এখন নজর দিচ্ছি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। প্রচার-প্রচারণায় যেসব ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহৃত হয় তা অপচনশীল ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এই সব বর্জ্য দিয়ে টব ও গাছের ড্রাম ও সবজির বেড তৈরি করছি। ফলে ছাদবাগানের খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
রাহাতের মতো অনেক তরুণ-তরুণী করোনাকালে ঘরে বসে না থেকে ছাদবাগানের দিকে ঝুঁকছেন। তবে শখের বসে বাগান করলেও ছাদবাগান সম্পর্কে অনভিজ্ঞতা, পরিচর্যা সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় অনেকেই সফল হচ্ছেন না। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা পেলেই সফল হওয়া যাবে বলে অভিমত দিয়েছেন পরিবেশবিদরা।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল আমীন বলেন, কেউ যদি নতুন ছাদবাগান করতে চায় তাকে কীভাবে বেড নির্মাণ করতে হবে, কীভাবে গাছের পরিচর্যা করতে হবে সে বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। প্রতিটি বাড়ির ছাদে অবশ্যই গাছ থাকা উচিত।
