করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ফের বাড়ানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া গত ১০ বছর ধরে অনুষ্ঠিত বই উৎসবটি এবার কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজন করা হবে না। তবে আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাটি যথাসময়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দুই সপ্তাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। এ সময় আমাদের মনিটরিং কাজ চলবে। দুই সপ্তাহ পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না তা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির জন্য গত মার্চ মাস থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ ছুটি নতুন করে আরও ১৪ দিন বাড়ানো হচ্ছে। এরপর সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায় কি না, তা ভেবে দেখা হচ্ছে।’
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কেউ চাইলে ভর্তি পরীক্ষা সশরীরে নিতে পারে। একটি স্বার্থের কথা চিন্তা না করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে আগে দেখতে হবে।’ এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. দীপু মনি বলেন, ‘সবাই যদি সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেন, তবে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে তা ভেবে দেখা হবে। সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট কমবে ও সময় ব্যয় কম হবে।’
সীমিত আকারে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ খুলে দেওয়া যায় কি না তা ভেবে দেখা হচ্ছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু এ স্তরের শিক্ষার্থীরা ছোট নয়, তাই কীভাবে এগুলো খুলে দেওয়া যায় সেসব বিষয় নিয়ে ভাবা হচ্ছে। প্রয়োজনে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠনের শিক্ষার্থীদের ভাগ করে বসিয়ে যদি ক্লাস নেওয়া যায়, এমন নানা ধরনের ভাবনা আমাদের রয়েছে।’
এদিকে ২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়া পহেলা জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে নতুন বই তুলে দেওয়ার কেন্দ্রীয় আয়োজনটি বাতিল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে, নতুন বছরে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া, সেটি মাথায় রেখেই ৩৬ কোটি নতুন বই প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে কেন্দ্রীয়ভাবে পাঠ্যপুস্তক উৎসব করা সম্ভব না হলেও নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার কাজটি করা হবে।’
আসছে নভেম্বরের শেষদিকে সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হতে পারে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তাদের যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।’
এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহাবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুকসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
