ঢাকার নবার স্যার সলিমুল্লাহর নাতি পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে তিন দিনের রিমান্ড শেষে পাঁচ সহযোগীসহ আলী হাসান আসকারীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এদিন আদালতে আসকারীর একাধিক সহযোগী প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের বিষয়ে জবানবন্দি দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) উপকমিশনার মাহফুজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজ (সোমবার) আলী হাসান আসকারী নামধারী ব্যক্তির একাধিক সহযোগী আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। গত বুধবার ডিএমপির সিটিটিসির একটি টিম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলী হাসান আসকারী ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালতের মাধ্যমে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় তারা। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন মো. রাশেদ ওরফে রহমত আলী ওরফে রাজা, মীর রাকিব আফসার, মো. সজীব ওরফে মীর রুবেল, মো. আহাম্মদ আলী ও মো. বরকত আলী ওরফে রানা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিনই এই ভুয়া নবাবচক্রের প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী লোকজন তাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। এখন পর্যন্ত ২০ জন ভুক্তভোগী তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। এসব ভুক্তভোগীর বিবরণে পাঁচ শতাধিক মানুষ প্রতারিত হয়েছেন। যাদের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ভুয়া নবাব আলী হাসান আসকারী ও তার সহযোগীর মধ্যে তিন আপন ভাই রয়েছেন। তারা সবাই মিলে ১২ কোটির বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। সেই টাকা কোথায় লুকিয়ে রেখেছেন কিংবা কোন কোন খাতে খরচ করেছেন, সেসব বিষয়ে প্রকৃত তথ্য সরবরাহ করেননি গ্রেপ্তার প্রতারকচক্রের সদস্যরা। তাদের ধারণা, এই টাকা কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন।
কর্মকর্তারা আরও জানান, আলী হাসান আসকারী ও গ্রেপ্তার ৫ সহযোগীর মধ্যে অন্তত তিনজন রয়েছেন যারা আসকারীর আপন ভাই। তারা হলেন মো. আহাম্মদ আলী, রাশেদ ওরফে রহমত আলী ওরফে রাজা ও মো. বরকত আলী ওরফে রানা। জিজ্ঞাসাবাদে এই তিন ভাই জানিয়েছেন, তাদের বাবার নাম হাজি মো. আবদুস সালাম। মায়ের নাম মৃত নাইমা খাতুন। নাইমা খাতুন মারা যাওয়ার পর তার বাবা আরেকটি বিয়ে করেন। এই দুই মা মিলে তারা পাঁচ ভাই, দুই বোন।
