১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ প্রার্থী, নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও প্রশাসন একাকার হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আমানউল্লাহ আমান এমন অভিযোগ করে গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, উপনির্বাচনকে সামনে রেখে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি ইসি। আমাদের প্রার্থী তার নির্বাচনী প্রচারের শুরুর স্থান সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগে জানিয়ে রাখলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা আগেভাগেই তা দখল করে রাখে। বাধ্য হয়ে প্রার্থীকে বিকল্প স্থান থেকে গণসংযোগ শুরু করতে হচ্ছে।
বিএনপির প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকাল সকাল ১০টায় উত্তরখান মাজার থেকে আমার গণসংযোগ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাধার কারণে গণসংযোগ না করে বিকল্প হিসেবে উত্তরা ১ নম্বর সেক্টরে গণসংযোগ করি। গত কয়েক দিন ধরে একই অবস্থা হচ্ছে। ইসি ও পুলিশ প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
তিনি বলেন, পুলিশের উত্তরা জোনের ডিসিকে ফোন করলে রিসিভ করছেন না। কথা শুনছেন না। আমরা নির্বাচন কমিশনে আমাদের অভিযোগ দিলেও কমিশন তা পাত্তা দিচ্ছে না। যখন যাই তখন খুব ভালো ভালো কথা বলে। কথা বলা পর্যন্তই থাকে। কোনো সহযোগিতা করছে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য নির্বাচন কমিশন কোনো কাজ করছে না।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আবদুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে গত রবিবার আবেদন করা হয়েছিল। তাতে সোমবার সাক্ষাৎ চাওয়া হয়। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তাতে সাড়া দেয়নি ডিএমপি।
গতকাল উত্তরা এক নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন সড়কে গণসংযোগ শেষে জিয়ানজিয়ান চাইনিজ রেস্টুরেন্টের সামনের সড়কে সংক্ষিপ্ত পথসভায় এসএম জাহাঙ্গীর অভিযোগ করে বলেন, ‘ধানের শীষের গণসংযোগে আওয়ামী লীগের বাধা এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে ইসিকে জানানো হলেও কোনো সহযোগিতা করা হচ্ছে না। ধানের শীষের পক্ষে লাখো জনতার জমায়েত দেখে আওয়ামী লীগ ভয় পেয়ে গেছে। তাই যেখানে আমরা পুলিশের অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি দিচ্ছি, সেখানে তারা হামলা এবং পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের আলামত নয়। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য ইসি কোনো কাজই করছে না।’
নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শাসনামল ১৯৭২ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না। এই শেখ হাসিনার আমলেও কোথাও কোনো গণতন্ত্র নেই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশ, দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশ জীবনের শেষ রক্তবিন্দু হলেও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতে হবে। যে দেশ স্বাধীন করেছেন আমার নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তম, সে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজনে জীবন দেব। আমরা অবশ্যই আমার নেত্রীর নির্দেশে গণতন্ত্র রক্ষা করব।’
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম প্রমুখ।
এদিকে গতকাল ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আমানউল্লাহ আমান ও সমন্বয়কারী আবদুস সালাম এক যৌথ বিবৃতি পাঠিয়েছেন গণমাধ্যমে। তাতে বলা হয়, গতকাল সকাল ১০টায় উত্তরখান থানার মাজার রোড চৌরাস্তায় বিএনপি প্রার্থীর পূর্বনির্ধারিত গণসংযোগের কর্মসূচি ছিল। সেখানে গণসংযোগের ব্যাপারে আগে থেকেই পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছিল এবং তাদের থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কর্মসূচি শুরুর আগেই সেখানে উপস্থিত বিএনপি প্রার্থীর নেতাকর্মীর ওপর লাঠিসোঁটা, রড ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা করে নৌকা মার্কার সমর্থক আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। সেখানে উপস্থিত পুলিশ ও সাংবাদিকদের সামনেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। উপস্থিত পুলিশ তাদের নিরস্ত্র না করে বরং সম্পূর্ণ নির্বিকার থাকে। তাদের হামলায় আহতরা হলেন ওয়ার্ড বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, মাকসুদুল আলম, কামাল হোসেন, হারুনুর রশিদ, হোসেন আলী, ছাত্রদলের জুলহাস মৃধা, সিরাজুদ্দীন বাবু, মেহেদী হাসান বাবু, হাবিবুর রহমান আকাশ, তানভীর আহমদ, শামীম আকন্দ, প্রিন্স খন্দকার, মাসুদুর রহমান জীবন, মারজুক আলামিন, যুবদলের উত্তরখান থানার সভাপতি রুস্তম আলী ব্যাপারী, থানা যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন, যুবদল নেতা রতন মোল্লা, আমির হোসেন, আকরাম হোসেনসহ বেশ কয়েকজন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, দিনে দিনে সরকার বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকারকে যে নির্বাসনে পাঠিয়েছে এ ঢাকা-১৮ তার একটি জ¦লন্ত প্রমাণ। দিনে দিনে নির্বাচনের পরিবেশকে ক্রমেই দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছে।
নেতৃদ্বয় এ ধরনের ন্যক্কারজনক কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইসি যদি অবিলম্বে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেয় এবং এ হামলা, নির্যাতন বন্ধ করে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা না হয় তাহলে এই ঢাকা-১৮ আসনের নির্বাচন থেকেই ফ্যাসিবাদ পতনের চূড়ান্ত আন্দোলন।
