ভুলে যাওয়া নাম মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৫০ পিএম

মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, যার কণ্ঠে এক সময় অনেক গান জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এখন সেই সব গান ক্ল্যাসিক হিসেবে স্বীকৃত। আজ তার প্রয়াণ দিবস।

নতুন প্রজন্ম— এমনকি বাংলা গানের অনেক নিয়মিত শ্রোতার কাছে বিস্মৃত নাম মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। তাকে স্মরণ করেছেন এ কালের জনপ্রিয় গায়ক লুৎফর হাসান। তিনি বুধবার ফেইসবুকে এই ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করেছেন। তথ্যবহুল সেই লেখাটা পাঠকের জন্য তুলে দেওয়া হলো—

“তিনি বাংলা গানের সর্বকালের সেরা স্মার্ট শিল্পীদের একজন। তিনি মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী।

ওই দূর দূর দুরান্তে, দিন দিনান্তে, নীল নীলান্তে, কিছু জানতে না জানতে, শান্ত শান্ত মন অশান্ত হয়ে যায়। এ এক অপূর্ব গান। আধুনিকের চেয়েও আধুনিক গান। পঞ্চাশ বছর আগের গান অথচ এখনও সমান আধুনিক! গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা গানে সুর ও সংগীত আয়োজন করেছিলেন সত্য সাহা। আর গেয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। একই জুটির কথা ও সুরে মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী গাইলেন সেই রাজ্জাকের লিপসিংয়েই আরেক গান। সেই গানও ইতিহাসের অংশ। আমি এক দুরন্ত যাযাবর, দিন নেই রাত নেই, বসে থাকি গাড়িতেই, পথেই বেঁধেছি মোর ঘর, আমি এক দুরন্ত যাযাবর। 

মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর গাওয়া আরেক ভুবনবিখ্যাত বাংলা গান জহিরুল হকের পরিচালনায় সেই ‘রংবাজ’ সিনেমায়। রাজ্জাক-কবরীর বৃষ্টি ভেজা রাতের সেই অসাধারণ পারফরম্যান্সের গান। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথায় আনোয়ার পারভেজের সুরে- হই হই রঙ্গিলা রঙ্গিলা রে, হায় হায় রঙ্গিলা, রঙ্গিলা রঙ্গিলা রে, রিম ঝিমঝিম বরষায় মন নিলা রে, আমি যে কী করি, আহারে সুন্দরী, জানি না কখন সে মন দিলো রে।

আলম খানের সুরে আর মুকুল চৌধুরীর কথায় এবার গাইলেন মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী সে এক নতুন গান। যা এখনও অনেকের হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায় সেই গায়কি। শোনো গো রূপসী ললনা, আমাকে যখন-তখন চোখ রাঙানো চলবে না।

সত্য সাহার সুরে আরেক গান লিখেছিলেন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। নীল আকাশের নীচে চলচ্চিত্রে রাজ্জাক ঠোঁট মিলিয়েছিলেন সেই গানে। ‘হেসে খেলে জীবনটা যদি চলে যায়’। গেয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীই। 

এ ছাড়া সাবিনা ইয়াসমিন, লায়লা আর্জুমান্দ বানু, জিনাত রেহানা এবং আরও অনেকের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে গেয়েছেন অনেক গান। যে গানগুলোর অধিকাংশই সে সময়ের সেরা গান বলে এখনও স্বীকৃত।

দুইশ ছয়টি সিনেমায় এবং অন্যান্য আধুনিক গান মিলিয়ে তার গানের সংখ্যা চার হাজার। বাংলা গানের পাশাপাশি তিনি উর্দু গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন। আর কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পেয়েছিলেন দারুণ দর্শকপ্রিয়তা। তিনি একাধারে কণ্ঠশিল্পী, সংগীত পরিচালক, গীতিকার এবং সুরকারও।

মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী জন্মেছিলেন ভাটির দেশে। শত সহস্র গুণীর অঞ্চল নেত্রকোনা তার বাড়ি। উনিশশ চুয়াল্লিশ সালের দুই ফেব্রুয়ারি তার জন্ম। সংগীতজগতে অবদান স্বরূপ তিনি জাতীয় পুরস্কার ছাড়াও অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তবে এই প্রজন্ম তাকে কি ভুলে যাচ্ছে? হয়তো। কিন্তু কেন? কারণ, সুশিক্ষার অভাব। যারা গানের সঙ্গে যুক্ত থাকেন বা আছেন, তাদের অধিকাংশই গানের ইতিহাস পড়ে না, গানের জগতে কাদের কোন অবদান সেসব খবর রাখে না, আর তাদের তেমন আগ্রহও নেই এ বিষয়ে। যা খুবই দুঃখজনক।

আজ শ্রদ্ধেয় মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর প্রয়াণ দিবস। ভালো থাকুন সত্যিকারের কিংবদন্তি।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত