সারা দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতকের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। জনস্বার্থে গতকাল বুধবার মানবাধিকার সংগঠন লিগ্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড পিপলস রাইটস ফাউন্ডেশনের (এলএসপিআরএফ) চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জহির উদ্দিন লিমন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি করেন। এতে শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চে আবেদনটি কার্যতালিকায় এলে শুনানি হবে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে আইনি নোটিস পাঠানো হয়।
অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন লিমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি ছাড়া মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক হওয়া যায় না। কেউ কেউ উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েও স্কুলের শিক্ষক হন। অথচ উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত শিক্ষকদের পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির অনেক সভাপতি ও সদস্যের ন্যূনতম কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। ফলে শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে অনেকেই স্বেচ্ছাচারী আচরণ করেন। যার প্রভাব পড়ে মাধ্যমিকসহ স্কুলের পরীক্ষার ফলাফলে। তাই মাধ্যমিক স্কুলে ম্যানেজিং কমিটিতে যারা থাকবেন তাদের ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক হওয়া প্রয়োজন।’
রিট আবেদনের বরাতে তিনি জানান, ২০১৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ছাড়া বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি হবে না বলে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই বিধান চালু হলে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ কেন করা হবে না। এছাড়া স্নাতক (পাস) ও অনার্স-মাস্টার্স কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়ার ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক (ডিগ্রি পাস) নির্ধারণ করা আছে। অন্যদিকে, গ্রাজুয়েট (ডিগ্রি পাসের নিচে নয়) ব্যক্তি ছাড়া ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় স্নাতক ছাড়া গভর্নিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না বলে এক রায়ে হাইকোর্টের অভিমত রয়েছে। এখন মাধ্যমিক স্কুলেও এ ধরনের বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।
