জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়িকা তমা মির্জা। বিবাহবিচ্ছেদ, দেশত্যাগসহ নানা বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন রণ
বিবাহবিচ্ছেদ...
আজকাল আর গুজবে কোনো অনুভূতিই হয় না। গুজব তো গুজবই। তবে হ্যাঁ, বিবাহবিচ্ছেদ সমাজে নতুন কোনো বিষয় নয়। একটা মানুষ বিয়ের পর সুখে-শান্তিতে সংসার করবে, সন্তানের মা হবে এটাই স্বাভাবিক। কোনো কারণে সেই সংসারে বিচ্ছেদ হওয়াটাও স্বাভাবিক। আমার জীবনেও যেকোনো সময় এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই। শুধু বিচ্ছেদ নয়, যেকোনো সময় কোনো অঘটনে মারাও যেতে পারি। সুতরাং কোনো কিছুতে অযথা রিঅ্যাক্ট করা আমি পছন্দ করি না।
দেশত্যাগ...
আমাদের দেশের রেওয়াজ স্বামী যেখানে থাকে, স্ত্রীকেও সেখানে থাকতে হয়। আমার স্বামী কানাডায় স্থায়ীভাবে থাকেন, তাই একদিন না একদিন আমাকে যেতেই হতো। তাই আমি দেশ ছেড়ে কানাডায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে যদি অন্য কোথাও থাকত, আমাকে হয়তো সেখানেই যেতে হতো। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন। বাবা-মাকে ছেড়ে বিদেশে এত দূরে থাকা খুব কষ্টকর। তা ছাড়া সব সময় একজন মেয়েকেই কম্প্রোমাইজ করতে হবে, এটাও ঠিক নয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত আমার ওপর কেউ চাপিয়ে দেয়নি। আমি এটাকেই ভালো মনে করছি। অনেক আর্টিস্টকে দেখেছি বিয়ের পর ক্যারিয়ারকে বড় করে দেখেছে বলে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। আমি সেই ভুল করতে চাই না। কেউ ক্যারিয়ারকে যদি খুব বেশি ভালোবাসে তাহলে তার উচিত এমন একজনকে বিয়ে করা যে এই পেশায় কোনো আপত্তি করবে না। নয়তো বিয়ে করা ঠিক নয়।
অন্য পেশায়...
শোবিজে আমার একটা জায়গা তৈরি হয়েছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। কাজটি আমি খুব ভালোবাসি, তাই মিস করব। কিন্তু কানাডা থেকে নিয়মিত এসে কাজ করা সম্ভব নয়। এ জন্য দেশে ছুটিতে এলে ভালো কোনো কাজ পেলে অবশ্যই করব। তবে একজন ইনডিপেডেন্ট নারী হিসেবে আমি তো ঘরে বসে থাকব না। তাই আমার স্বামী বলেছেন কানাডায় তার ব্যবসায় সাহায্য করতে। এমন কোনো চাকরিও করতে পারি, যা করলে সংসারে কোনো অসুবিধা হবে না। আমি নাচতে খুব ভালোবাসি, তাই আমার স্বামী বলেছেন কানাডা গেলে বাচ্চাদের নাচ শেখার স্কুলও খুলতে পারো। ইচ্ছা আছে ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে দর্শকের সঙ্গেও যুক্ত থাকার।
নতুন কাজ...
লকডাউনের মধ্যে সেভাবে কোনো সিনেমার প্রস্তাব পাইনি। তবে তিনটি ওয়েব সিরিজের প্রস্তাব এসেছিল। ভিন্ন ভিন্ন কারণে করা হয়নি। আগে পরিচালকরা বলতেন বাজেট কম। আর এখন বলেন, বাজেট নেই। কিন্তু আমার মতো একজন শিল্পী তো ঝুঁকি নিয়ে ফ্রিতে কাজ করতে পারে না। পরিচালক-প্রযোজকের সেটা বোঝা উচিত। আবার শিল্পীকেও বুঝতে হবে এখন বাজেট কম, তাই পারিশ্রমিক কিছুটা কমানো উচিত।
