অপেশাদার উইন্ডিজে কার্ল হুপারের পণ্ডশ্রম

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২০, ১১:৩৩ পিএম

১১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন নভোজত সিং সিধু। ম্যাচসেরাও হয়েছিলেন তিনি। বিশাখাপত্তম তবু তাকে মনে রাখেনি। মনে রেখেছে কার্ল হুপারকে। ৪৭ বলে ৭৪ রানের অনবদ্য ইনিংসের জন্য। অপরাজিতও ছিলেন হুপার। শেষ বলে ছক্কা মারলে ম্যাচ টাই হতো। হুপার নিয়েছিলেন ২ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ হেরেছিল ৪ রানে।

বিশাখাপত্তমের ম্যাচটি হয়েছিল ১৯৯৪ সালের ৭ নভেম্বর। ফরিদাবাদের প্রথম ওয়ানডেতে ৯৬ রানে জিতেছিল উইন্ডিজ। ওয়াংখেড়ের দ্বিতীয় ম্যাচ ৮ রানে জিতে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিক ভারত। দুই ম্যাচেই শচিন টেন্ডুলকার শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। বিশাখাপত্তমে রান পেয়েছিলেন। ওপেনিংয়ে নেমে ৬৪ বলে ৫৪ রান করেন।

বিশাখাপত্তমের তৃতীয় ওয়ানডের ব্যাপ্তি ছিল ৪৪ ওভার। না, বৃষ্টি হয়নি। পরিবহন সমস্যায় উইন্ডিজ দলের ক্রিকেট সরঞ্জাম পৌঁছতে দেরি হয়েছিল। তাই দুই দলের অধিনায়ক ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পর টস করতে নামেন। যে কারণে ৬ + ৬ = ১২ ওভার কমিয়ে দেওয়া হয়। কেন সময় মতো উইন্ডিজের ব্যাগপত্তর পৌঁছাল না তা নিয়ে পরে তদন্ত করেছিল ভারতীয় বিমান। ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তার জন্য অতিরিক্ত অফিসার নিয়োগ দিয়েছিল সংস্থাটি।

উইন্ডিজের অধিনায়ক কোর্টনি ওয়ালশ টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। দলে তার ক্রাইম পার্টনার কার্টলি অ্যামব্রোস ছিলেন না। ওয়ালশের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে অধিনায়ক আজহারউদ্দিন বলেছিলেন, ‘ওয়ালশের ফিল্ডিং নেওয়া দেখে আমি খুব অবাক হয়েছিলাম। ব্যাটিংয়ের জন্য এটা ছিল দারুণ উইকেট।’ অজয় জাদেজা আর টেন্ডুলকার ওপেনিংয়ে নেমে ৬৪ রানের জুটি গড়েন। এরপর সিধু (১১৪*) ও মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন (৪৫) রানটাকে ২৬০-এর ঘরে নিয়ে যান। ওই সময়ে ৪৪ ওভারে ২৬০ রান ওয়ানডেতে বিশাল স্কোর।

উইন্ডিজের নির্ধারিত ৪৪ ওভার শেষ করার কথা ছিল স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটের মধ্যে। সফরকারীরা নির্ধারিত সময়ে ৪২ ওভার শেষ করেছিল। দেরির কারণ ছিল সিধুর ইনজুরি। যদিও্ সেøা ওভার রেটের কারণে ম্যাচ রেফারি রমণ সুব্বা রাও শাস্তি হিসেবে উইন্ডিজের ব্যাটিং থেকে ১ ওভার কেটে নেন। ফলে ৪৩ ওভারে ২৬১ রানের টার্গেট দাঁড়ায়। ওভারপ্রতি ৬.০৭ রান তখনকার দিনে ছিল প্রায় অসম্ভব টার্গেট।

জবাব দিতে নেমে উইন্ডিজের শুরুটা ভালো হয়েছিল। ফিল সিমন্স আর স্টুয়ার্ট উইলিয়ামস ৮৬ রান তোলেন। আজহারের থ্রোতে ৬০ বলে ৪৯ করে থেমেছিলেন উইলিয়ামস। এরপর শচিনের মিডিয়াম পেসে ৫১ রানে বোল্ড হন সিমন্স। ত্রিনিদাদের কিংবদন্তি ব্রায়ান চার্লস লারা সাবধানে দেখেশুনে খেলছিলেন। ৫৫ বলে ৩৯ করেছিলেন। তাকে আউট করেন মনোজ প্রভাকর। ক্যারিবিয়ানদের রান তখন ৩ উইকেটে ১৭৮। কিথ আর্থারটন নেমেই মারমুখী ভঙ্গিতে শুরু করেন। যদিও অনিল কুম্বলের বলে আউট হওয়ার আগে ৮ বলে ১৩ রানের বেশি করতে পারেননি। এরপর ভারতীয় বোলার আর ফিল্ডারদের দাপটে ৩ উইকেটে ২০২ থেকে দ্রুত ৭ উইকেটে ২৩০ হয়ে যায় উইন্ডিজের স্কোর। এক প্রান্তে যদিও অবিচল থেকে আক্রমণ জারি রেখেছিলেন কার্ল হুপার। তখনো তিনি জানেন না ৪৩ ওভারের মধ্যেই তাকে ২৬১ রান করতে হবে। উইন্ডিজ টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে ভালো করে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলেনি। হারের পর ওয়ালশ বলেছিলেন, ‘ম্যাচের তীব্র উত্তেজনায় এমনই বিভোর ছিলাম যে তাকে (হুপার) ব্যাপারটা জানাতে দেরি হয়েছিল। প্রশাসন অপেশাদার হলে ম্যানেজমেন্ট তেমন হতে বাধ্য।’

যাই হোক, টিম ম্যানেজমেন্টের ভুলের মাশুলে ম্যাচ হারতে হয়েছিল উইন্ডিজকে। ৪৪ ওভার ভেবে খেলছিলেন হুপার। শেষ ওভারে যখন জানতে পারেন তখন আর বেশি সময় নেই। শেষ বলে জেতার জন্য ৭ রান দরকার ছিল উইন্ডিজের। ছক্কা মারলে ড্র হতো। কার্ল হুপার নিয়েছিলেন ২ রান। ৪৩ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৭ রানে থেমেছিল উইন্ডিজ। মাত্র ৪ রানে জিতে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১-এ লিড নিয়েছিল ভারত। বিশাখাপত্তমের পর কটক আর জয়পুরের ওয়ানডে দুটি জিতে ৪-১-এ তারা সিরিজটাও পকেটে পুরে। পঞ্চম ওয়ানডেতে হুপার ৮৮ বলে ৮৪ করেছিলেন। যদিও্ তার পক্ষে ম্যাচ জেতানো সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত