ঢাকার ধামরাই উপজেলায় যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় পায়ে লোহার শেকল ও কোমরে দড়ি দিয়ে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গত বুধবার উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের বেলীশ^র গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে চারজনের নাম উল্লেখ করে ধামরাই থানায় মামলা করেন গৃহবধূ নাছিমা। পরে পুলিশ তার স্বামী নুরুল করিম কাঞ্চনকে গ্রেপ্তার করে। কাঞ্চন মানিকগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের টেকনিশিয়ান পদে কর্মরত।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কাঞ্চনের আগের দুই স্ত্রী মারা যান। প্রথম স্ত্রীর ঘরে হৃদয় চৌধুরী নামে এক ছেলে রয়েছে। নয় বছর আগে তার সঙ্গে নাছিমার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। কাঞ্চনের এ ঘরেও একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর কাঞ্চন ও তার পরিবারের সদস্যরা পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য নাছিমাকে চাপ দেয়। মা-বাবা টাকা দিতে না পারায় প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। নির্যাতনের মুখে নাছিমা বেশ কয়েকবার বাবার বাড়ি চলে যান।
একপর্যায়ে বাবার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার এনে স্বামীকে দেন তিনি। আরও দুই লাখ টাকার জন্য চাপ দিলে অপারগতা জানান নাছিমা। এরই জের ধরে গত বুধবার তাকে নির্যাতন করে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা। নাছিমার চিৎকারে প্রতিবেশীরা তার মা-বাবাকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। পরে তারা এসে মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
নাছিমার মা বলেন, ‘যৌতুকের জন্য আগে থেকেই আমার মেয়েকে নির্যাতন করে আসছে কাঞ্চন ও তার পরিবারের সদস্যরা। সম্প্রতি একাধিক নারীর সঙ্গে কাঞ্চনের অনৈতিক সম্পর্ক নাছিমা জেনে যাওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’
ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা জানান, গৃহবধূর মামলায় স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামি গৃহবধূর দেবর রফিকুল ইসলাম অলিদ, জা শাহনাজ চৌধুরী ও প্রথম পক্ষের ছেলে হৃদয়কে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
