ডোনাল্ড ট্রাম্প হলেন রিপাবলিকান শিবিরের প্রেসিডেন্ট। আর এই পার্টির রাজনৈতিক প্রতীক হলো হাতি। বলা হচ্ছে, এবারের নির্বাচনে সেই হাতি খাদে পড়েছে। আর হাতি খাদে পড়ার পর ট্রাম্পের ওপর একের পর এক চড়াও হচ্ছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। শুধু নেতারাই নন, পরিবেশবাদী আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও একচোট নিয়েছেন ট্রাম্পের ওপর।
ট্রাম্পের সময় এখন ভালো যাচ্ছে না। প্রতিমুহূর্তে নির্বাচনের ফল তার হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সুইং স্টেটগুলোর মধ্যে যে কটিতে তিনি গত বৃহস্পতিবারও এগিয়ে ছিলেন, গতকাল শুক্রবার সেখানে ধীরে ধীরে আগাতে শুরু করেন ডেমোক্রেট দলীয় প্রার্থী জো বাইডেন। আর এই পিছিয়ে পড়ার কারণে ট্রাম্প অদ্ভুত আচরণ শুরু করেছেন। একবার তিনি ভোট গণনা বন্ধ করতে বলছেন, একবার নিজেকে জয়ী ঘোষণা করছেন। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের কারণে এখন তিনি নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির নেতার তুলাধোনার শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
মেরিল্যান্ডের রিপাবলিকান গভর্নর ল্যারি হোগান এক টুইটবার্তায় বলেছেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে খাটো করছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে খাটো করে প্রেসিডেন্ট যে মন্তব্য করেছেন, তার কোনো আত্মপক্ষ সমর্থন হয় না। আমেরিকায় ভোট গণনা চলছে। আগের সব সময়ের মতোই আমেরিকানদের অবশ্যই এই ফলাফলকে সম্মান করতে হবে। কোনো নির্বাচন বা কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়।
ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি উইল হার্ট টুইট করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আমাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে খাটো করছেন। তিনি কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই অগণিত আমেরিকানের মতামতের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এটা শুধু বিপজ্জনকই নয়, ভুলও বটে। এটা আমাদের জাতির ভিত্তিকেই খাটো করছে।’
ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান প্রতিনিধি অ্যাডাম কিনজিঙ্গার তার দলের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন। ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি টুইটে বলেছেন, ‘ভুল তথ্য ছড়ানো বন্ধ করুন।’
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ থেকে মার্কিন জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। এই বক্তব্যে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগে তিনি আবার নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। বক্তব্যে নানা ভিত্তিহীন দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প তার বক্তব্যে বৈধ ভোটকে অবৈধ বলে দাবি করেন। তিনি ফের ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে বলেন, অবৈধভাবে ভোট গণনা করা হচ্ছে। বৈধভাবে ভোট গণনা হলে তিনি জয়ী হতেন।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প। দল ‘দুর্বল’ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা। বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র রিপাবলিকান সমর্থকদের উদ্দেশে টুইটারে লিখেছেন, ‘ইচ্ছা ও লড়াই করার সক্ষমতা দেখানোর যথাযথ একটি প্ল্যাটফর্ম আছে তাদের। তবে উল্টো দেখা যাচ্ছে, গণমাধ্যমের সামনে তারা মুষড়ে পড়ছে। উদ্বেগের কারণ নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্প লড়াই করে যাবেন। আর বরাবরের মতো তারা কেবল দেখতে থাকবেন!’
ট্রাম্পের আরেক ছেলে এরিক ট্রাম্প সমর্থকদের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে লিখেছেন, ‘কোথায় রিপাবলিকানরা! কিছুটা তো মেরুদণ্ড থাকা উচিত। এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে লড়–ন। এই সময়ে আপনারা ভেড়ার পালে মিশে গেলে আমাদের ভোটাররা আপনাদের কখনোই ভুলবে না।’
ট্রাম্পের দুই ছেলে ছাড়াও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন দেশটির শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি ও এফবিআইপ্রধান ক্রিস্টোফার রের শিরেদের আহ্বান জানিয়েছেন। টুইটারে ওই আহ্বান জানানোর পর টুইটার কর্র্তৃপক্ষ ওই পোস্ট সরিয়ে নেয়। তবে ব্যাননের এক মুখপাত্র দাবি করেন, ব্যানন সত্যিকার অর্থে শিরেদের কথা বলেননি। তিনি রূপক অর্থে টিউডর ইংল্যান্ডের রক্তাক্ত রাজনীতির কথাকে সামনে এনেছেন। তিনি কখনো কোনো ধরনের সহিংসতার ডাক দেননি।
