ট্রাম্পের অব্যাহত মিথ্যাচার, সম্প্রচার বন্ধ গণমাধ্যমের

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২০, ০২:০৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে অপেক্ষার অবসান হয়নি। উত্তেজনা আর অপেক্ষার প্রহর বাড়ছে। এই অবস্থায় সংশয় আরও বাড়াচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অব্যাহত মিথ্যাচার। নির্বাচনী রাতের পর গত বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউজ থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভাষণে নির্বাচন, ভোট গণনা নিয়ে মিথ্যাচার করেন তিনি। তার এই মিথ্যাচারের কারণে বেশ কয়েকটি সংবাদ সংস্থা ভাষণের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়।

সিএনএন বলছে, ১৭ মিনিটের ভাষণে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ভিত্তিহীন অভিযোগের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন তিনি। জোর দাবি জানান, নির্বাচন ছিনতাইয়ের জন্য ডেমোক্র্যাটরা ভোট কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে।

ব্যাটলগ্রাউন্ড পেনসিলভানিয়া এবং জর্জিয়ায় বাইডেনের সঙ্গে ভোটের ব্যবধান কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এদিন ভাষণ নিয়ে হাজির হন ট্রাম্প। ভোট গণনার ধীরগতিকে কারচুপি হিসেবে আখ্যা দেন। এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে মার্কিন জাতিকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেন ট্রাম্প।

বক্তব্যে ভিত্তিহীন কথা বলা শুরুর পরপরই সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় মার্কিন গণমাধ্যম এমএসএনবিসি। গণমাধ্যমটির উপস্থাপক ব্রেইন উইলিয়াম বলেন, আজ আমরা আরেকটি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। শুধু প্রেসিডেন্টকে প্রত্যাখ্যান করা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে শুধরে দেওয়ার জন্য এটা করা হয়েছে।

এনবিসি এবং এবিসিও ট্রাম্পের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। সম্প্রচার বন্ধের পর এবিসির হোয়াইট হাউজ প্রতিনিধি জনাথন কার্ল বলেন, ভোট কারচুপির কোনো প্রমাণ নেই। হতাশা থেকে ট্রাম্প এসব কথা বলছেন। ভোট গণনায় সময় লাগছে। ভোট গণনা সময়সাপক্ষে একটি বিষয়। এবার বেশি লাগছে। এটা খুবই স্বাভাবিক।

সিএনএন তাদের সম্প্রচার অব্যাহত রেখেছিল। সম্প্রচারের সময় তাদের পর্দায় লেখা ছিল, কোনো প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প বলছেন, তিনি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

সম্প্রচার শেষ হওয়ার পর উপস্থাপক জ্যাক ট্যাপারের চোখেমুখে ছিল বিরক্তি। বলেন, মার্কিনিদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক রাত এটি। প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে তাদের শুনতে হয়েছে ‘নির্বাচন চুরি’ চেষ্টার মিথ্যা, ভিত্তিহীন অভিযোগ। একের পর এক মিথ্যা বলা হয়েছে। যা অত্যন্ত নিন্দাজনক।

ফক্স নিউজ চ্যানেলের উপস্থাপক বিল বেনেট এবং বায়রন ইয়র্ক বলেছেন, অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলেননি। তার মানে এই নয় যে, সেখানে কিছু হয়নি। প্রেসিডেন্ট এবং আইনজীবীদের উচিত ছিল তথ্যপ্রমাণ হাজির করা।

সিবিএস নিউজের জন ডিকারসন বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য মিথ্যা আবৃত্তির মতো মনে হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত