যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি এখনো। প্রাথমিকভাবে গণমাধ্যমে আসা ফলাফলে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল দেখালেও ব্যাটেলগ্রাউন্ড সব রাজ্যের ফল না আসা পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না কিছুই। জর্জিয়াতেও ভোট পুনঃগণনার ঘোষণা দিয়েছেন সেখানকার স্টেট সেক্রেটারি। ব্যবধান অনেক কম হওয়ায় একই অবস্থার দিকে যাচ্ছে পেনসিলভানিয়াও। এর মধ্যে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার অঙ্গরাজ্যটির নির্বাচন ও এর ভোট গণনা পদ্ধতি নিয়ে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে চূড়ান্ত ফলের জন্য ট্রাম্প বা বাইডেনের মতোই আরও অপেক্ষা করতে হবে বিশ্ববাসীকে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে, মিশিগান অঙ্গরাজ্যটির রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার লি চ্যাটফিল্ড বলেছেন, আইনসভার পর্যবেক্ষক কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার (গতকাল) এই তদন্ত শুরুর বিষয়ে বৈঠক করবে। এই নির্বাচন ও ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলো যেন তর্কের ঊর্ধ্বে থাকে সে জন্যই এ তদন্ত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ সম্পর্কিত এক টুইটে লি চ্যাটফিল্ড লেখেন, ফল পরিবর্তন লক্ষ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্য ও নিশ্চয়তা দরকার। এটা প্রয়োজন। চ্যাটফিল্ড এই বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, নির্বাচনে যিনিই বেশি ভোট পাবেন, তিনিই মিশিগান জয় করবেন। এখানেই গল্প শেষ। আমরা এগিয়ে যাব।
তবে এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন অঙ্গরাজ্যটির সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জিম অ্যানানিচ। এ সম্পর্কিত প্রতিক্রিয়ায় এই ডেমোক্র্যাট বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক পদক্ষেপ। এই প্রেসিডেন্ট যে গোলমালের ওপর আস্থা রাখেন, এটি শুধু তার ক্ষেত্র প্রস্তুতে কাজে লাগবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মিশিগান রিপাবলিকান দল ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিল আগেই। কিন্তু এ সম্পর্কে কোনো প্রমাণ তারা হাজির করেনি। অঙ্গরাজ্যটিতে বাইডেন থেকে ভোটে ক্রমে পিছিয়ে পড়ার সময় থেকেই এই অভিযোগ তোলা হয়। গত ৬ নভেম্বর ভোট গণনা বন্ধে মামলাও করা হয়। অভিযোগ ছিল, ভোট গণনার নির্ধারিত স্থানে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের কাউকে সেভাবে উপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সে কারণে তাদের পক্ষে ব্যালট পেপার খোলা ও ভোট গণনার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে এই অনুপস্থিতির সময় যেসব ভোট গণনা ও ব্যালট পেপার খোলা হয়েছে, সেগুলো পুনর্মূল্যায়নেরও দাবি জানায় তারা। কিন্তু মিশিগানের আদালতের বিচারক সিনথিয়া স্টিফেনস ওই দিনই মামলাটি খারিজের আদেশ দেন। স্টিফেনস বলেন, এই মামলা চালিয়ে যাওয়ার কোনো ভিত্তি তিনি খুঁজে পাননি।
এদিকে জটিলতা তৈরি হয়েছে জর্জিয়ার ভোট গণনা নিয়েও। এই অঙ্গরাজ্যে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান কম হওয়ায় এই ভোট পুনঃগণনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির সেক্রেটারি অব স্টেট। তবে এ ধরনের ভোট গণনায় ফল পরিবর্তন হওয়ার ইতিহাস যুক্তরাষ্ট্রে নেই। জর্জিয়ায় বাইডেনের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী অঙ্গরাজ্যটির রাজধানী আটলান্টার মেয়র কিশা লান্স বটমস। এই ডেমোক্র্যাট সিএনএনকে বলেন, এটা আমাদের বছর। জর্জিয়া নীল রং ধারণ করতে যাচ্ছে। ব্যবধান কম হবে। কিন্তু আমাদের এখানে নির্বাচন এমনই হয়।
আরেক অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়া নিয়েও প্রবল উত্তেজনা কাজ করছে। এই অঙ্গরাজ্যেও ভোট জালিয়াতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প ও তার নির্বাচনী প্রচার শিবির। অঙ্গরাজ্যটিতে এই মুহূর্তে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাইডেন ট্রাম্প থেকে ২৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অঙ্গরাজ্যটির মোট সম্ভাব্য ভোটের ৯৯ শতাংশ এরই মধ্যে গণনা হয়ে গেছে। অঙ্গরাজ্যটিতে এখনো ৫০ হাজারের মতো ভোট গণনার বাকি। এই ভোটগুলোর সবই ডাকযোগে আসা। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভোট বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিক ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের। এসব ব্যালট সবার উপস্থিতিতে গণনা করা হচ্ছে। এর বাইরে রয়েছে আরও ২৯ হাজারের মতো ব্যালট, যেগুলো ডাকযোগে পাঠানোর সময় ভোটাররা ছোটখাটো ভুল করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেসব ভুল শুধরে এসব ব্যালট গণনা করা হবে। তবে আদালতের আদেশের কারণে এই ব্যালটগুলো গণনা একটু দেরি হবে।
গণনার বাকি থাকা এই ভোটগুলো কোনদিকে যেতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল জশ শাপ্রিয় বলেন, এটা বলা মুশকিল। তবে ঐতিহাসিকভাবে অঙ্গরাজ্যের ভোটের সাধারণ চিত্রের প্রতিফলন থাকে এতে। অর্থাৎ, এই অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনে এমনিতে যে এগিয়ে থাকে, এ ক্ষেত্রেও সেই প্রার্থীকেই এগিয়ে থাকতে দেখা যায়।
