শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের স্বাক্ষর জাল করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পিয়ন মো. জুয়েল। অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক। তিনি জানান, ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু উপমন্ত্রীর স্বাক্ষর জালিয়াতিই নয়, বদলি, ভর্তি ও শিক্ষকদের এমপিওসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে জুয়েল। গত কয়েক বছর ধরে মহাপরিচালকের পিয়ন হিসেবে কাজ করছে সে। এই সুযোগে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজ ও স্কুল শিক্ষকদের অনেককেই নানাভাবে সুবিধা দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সে।
স্বাক্ষর জাল করে সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষক বদলির ঘটনায় জুয়েলসহ শিক্ষা ভবনের সংশ্লিষ্টদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন উপমন্ত্রী। জুয়েলের যাবতীয় জালিয়াতির তদন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেওয়া হবে বলেও জানা গেছে। যদিও তার বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে মাউশি থেকে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জুয়েলের বিরুদ্ধে সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষক-কর্মচারী বদলি, সদ্য সরকারিকৃত স্কুল শিক্ষকদের সনদ ও তথ্য বদলে দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগ বাণিজ্যে অন্য আরেক কর্মচারী সৈয়দ লিয়াকতের সঙ্গে সিন্ডিকেট করেই এসব বাণিজ্য করে আসছে জুয়েল। তা ছাড়া জালিয়াতি করে এমপিও পাইয়ে দেওয়া ও টাকার বিনিময়ে ফাইল গায়েব করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মাউশির মহাপরিচালক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পরই নিয়ম অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে প্রমাণ হলে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
