একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার দুই আসামিকে অসুস্থতাজনিত কারণে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। জামিনের পৃথক আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত দুই বিচারপতির ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেয়। জামিনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন নড়াইলের লোহাগড়ার নওয়াগ্রামের দাউদ শেখ ও ঝিনাইদহের হলিধানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রশিদ।
ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়েছে, জামিনে থাকাকালে আসামিরা ঢাকায় পরিবার ও আইনজীবীর জিম্মায় থাকবেন এবং আসামি কিংবা তাদের পরিবারের কেউ মামলার বিষয়বস্তু নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে পারবেন না। দুজনের পাসপোর্ট থাকলে তা ট্রাইব্যুনালে জমা ও নিয়মিত ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে হবে।
দাউদ শেখকে ২ ও আব্দুর রশিদকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানান প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। তিনি আরও জানান, দাউদ শেখের মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে এবং আব্দুর রশিদের মামলাটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। দাউদ শেখের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। আব্দুর রশিদের পক্ষে ছিলেন গাজী এম এইচ তামিম। অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার পালোয়ান জানান, আসামি দাউদ শেখ ইউরোজিক্যাল ও আব্দুর রশিদ হার্টের সমস্যায় ভুগছেন।
২০১৭ সালের ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা নড়াইলের লোহাগড়ার দাউদ শেখসহ যশোর-নড়াইলের ১২ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। ৪৩৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ পাঁচটি অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর ঝিনাইদহ সদরের পূর্বপাড়ার মো. আব্দুর রশিদ মিয়াসহ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে তদন্ত সংস্থা। তাদের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৭ জুন তদন্ত শুরু হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতনের দুটি অভিযোগ আনা হয়।
