কভিড নেগেটিভ সনদধারীরা চীন গিয়ে পজিটিভ হচ্ছেন

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২০, ০৪:০১ এএম

বাংলাদেশের নাগরিকদের চীন ভ্রমণের জন্য তিনটি শর্ত দিয়েছে দেশটির সরকার। চীনগামী এয়ারক্রাফটে ওঠার ৪৮ ঘণ্টা আগে নিউক্লিয়িক এসিড ও আইজিএম অ্যান্টিবডি পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ লাগবে। এসব সনদ ঢাকার নোভাস ক্লিনিক্যাল রিসার্চ সার্ভিসেস থেকে সংগ্রহ করতে হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বা আইসিডিডিআর,বি থেকেও সনদ নেওয়া যাবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করার অনুরোধ জানিয়েছে চীন। গত ৩ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, গত মাসে বাংলাদেশ থেকে চীন ভ্রমণকারী যাত্রীদের মধ্যে ৩৪ জনকে কভিড পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তারা সবাই কভিডের নেগেটিভ সনদ নিয়ে দেশটিতে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে গত ২২ অক্টোবর এক দিনেই সাউদার্ন চায়না এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ১০ জন পজিটিভ রোগী গিয়েছিলেন। এই অবস্থায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে চীন সরকার বাংলাদেশে সাউদার্ন চায়না এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চলাচল পাঁচ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে। এর আগেও এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিল এয়ারলাইনসটি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আন্তঃসীমান্ত সংক্রমণ রোধে চীন সরকার গত ৭ নভেম্বর থেকে দেশটিতে ভ্রমণকারী সব দেশের সব ধরনের পাসপোর্টধারীদের এয়ারক্রাফটে ওঠার ৪৮ ঘণ্টা আগে নিউক্লিয়িক এসিড এবং আইজিএম অ্যান্টিবডি পরীক্ষার নেগেটিভ সনদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে এসব পরীক্ষার জন্য নোভাস ক্লিনিক্যাল রিসার্চ সার্ভিসেস লিমিটেডকে মনোনীত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে চীন।

জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর কভিড পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত ১০ যাত্রীর মধ্যে ৫ জন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার থেকে সনদ নিয়েছেন। তারা হলেন রোমেনা আখতার, মোহাম্মদ আশরাফুল আলম, ফালগুনি আজিজা রুবী, উ জিয়ানজিন এবং জু হুয়া। এরপর গত ২৯ অক্টোবর চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের আরও ৪ যাত্রীকে কভিড পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তারাও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিনের সনদধারী। তারা হলেন জিহাও পেং, ইয়াং ইয়াওজিং, পি হুয়াইপিং এবং ইয়াও ইধনগুই।

এর আগে গত ১ অক্টোবর চায়না সাউদার্নের চার যাত্রী কভিড পজিটিভ হিসেবে চিহ্নিত হয়। তাদের মধ্যে মো. ইনামুল হাসান, জো হান ও ইউইনজুন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের এবং কিউউ ইয়ংজুন নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল থেকে কভিডের নেগেটিভ সনদ নিয়েছিলেন।

৩ অক্টোবর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ৬ যাত্রীর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তাদের মধ্যে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার থেকে সনদ নিয়েছেন এমএ এমদাদুল হক, নাজমুন নাহার ও লিউ উন। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে সনদ নিয়েছিলেন মো. ইমরান হোসাইন সরকার। গত ৮ অক্টোবর সাউদার্নের ৩ যাত্রী পজিটিভ চিহ্নিত হয়েছেন। তারা হলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের সনদ নেওয়া লি চেন ও ওয়াং চুন এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসিয়াস ডিজিসেসের সনদ নেওয়া জাং জিপেং।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার থেকে সনদ নিয়ে মিরাজ আহমেদ ভূইয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসে চীন গিয়ে পজিটিভ হয়েছেন। ১৫ অক্টোবর সাউদার্ন এয়ারলাইনস ৬ পজিটিভ যাত্রী নিয়ে সেখানে যায়। তাদের মধ্যে সোহিনী খালেদ আইরিন, আল ইয়েসা আরব, সুকুমার রায় ও রোকসানা ইয়ানমীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার; মো. আখতার হোসেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কভিডের নেগেটিভ সনদ নেন।    

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত