রাজধানীতে ১৯৮৯ সালের জুলাইয়ে সগিরা মোর্শেদ সালাম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মারুফ রেজার বিচার শিশু আদালতে স্থানান্তরের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয়। আবেদনের ওপর শুনানির পর হাইকোর্ট আদেশ দিতে না চাইলে আসামির আইনজীবীর আরজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সেটি খারিজ করে দেয়।
আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী দেওয়ান আবদুন নাসের। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মো. মনিরুল ইসলাম। ডিএজি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৭৪ সালের শিশু আইন অনুযায়ী ১৬ বছরের ওপরে হলে আর শিশু হিসেবে গণ্য হয় না। ২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী যেটি এখন ১৮ বছর নির্ধারিত। স্কুলের নথিপত্র অনুযায়ী ঘটনার সময় মারুফের বয়স ছিল ১৬ বছর ১০ মাস এবং ওই আইন অনুযায়ী তখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছিল। এ যুক্তিগুলো আদালতে তুলে ধরেছি। আদালত আসামির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।’
এ মামলায় আসামি মারুফের বিচার কার্যক্রম শিশু আদালতে স্থানান্তরের আবেদন গত ৭ সেপ্টেম্বর মহানগর দায়রা জজ আদালত খারিজ করে দেয়। এরপর গত রবিবার হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করা হয়। মারুফের আইনজীবী জানান, মামলার আগের অভিযোগপত্রে মারুফকে আসামি করা হয়নি। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্রে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট অনুযায়ী ঘটনার সময় মারুফের বয়স ছিল ১৬ বছর ১০ মাস ২৬ দিন। তাই মারুফ রেজার ক্ষেত্রে মামলাটি ২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী শিশু আদালতে স্থানান্তরযোগ্য।
১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে খুন হন সগিরা মোর্শেদ। রমনা থানায় মামলার পর মন্টু নামে একজনকে আসামি করে ঢাকার একটি আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ১৯৯১ সালে বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্য গ্রহণের সময় মারুফ রেজা নামে একজনের নাম আসায় বাদীপক্ষের আবেদনে সাড়া দিয়ে ওই বছরের ২৩ মে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেয় আদালত। ওই বছরের জুলাইয়ে হাইকোর্টের আদেশে বিচারকাজ ও তদন্তের ওপর ছয় মাসের জন্য স্থগিতাদেশ রুল হয়। পরের বছর আগস্টে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিচারকাজ স্থগিত থাকবে মর্মে আদেশ দেয় হাইকোর্ট। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিলে গত বছরের ২৬ জুন স্থগিতাদেশ তুলে নেয় হাইকোর্ট। তদন্ত শেষে পিবিআই জানায়, দুই ভাইয়ের স্ত্রীদের মধ্যে ঈর্ষা থেকে খুন হয়েছিলেন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সগিরা মোর্শেদ।
