রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড ডি-অ্যাডিকটেড হাসপাতালে জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম শিপনের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির আরও এক পরিচালককে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে আদাবর থানা-পুলিশ। তার নাম ফাতেমা খাতুন। রাতে তাকে আদাবর থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মৃত্যুঞ্জয় দে সজল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুক্রবার তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হবে। এ মামলার এজাহারনামীয় আসামি ও হাসপাতালটির পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. সাখাওয়াত হোসেন ও সাজ্জাদ আমিনকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
মানসিক অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী আনিসুল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই হাসপাতালের মোট তিন মালিককে (পরিচালক) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে, হাসপাতালের পরিচালক ও বিপণন ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ জয় সাত দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। অপর পরিচালক, নিয়াজ মোর্শেদ অসুস্থ হওয়ায় তাকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আনিসের বাবা ফাইজ উদ্দিন আহমেদের করা মামলায় এজাহারভুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাত দিনের রিমান্ডে থাকা ১০ কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা হলেন- হাসপাতালের বিপণন ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ জয়, সমন্বয়ক রেদোয়ান সাব্বির, প্রধান বাবুর্চি মাসুদ, ফার্মাসিস্ট তানভীর হাসান, ওয়ার্ডবয় জোবায়ের হোসেন, তানিফ মোল্লা, সজীব চৌধুরী, অসীম চন্দ্র পাল, লিটন আহাম্মদ ও সাইফুল ইসলাম পলাশ।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ বলেছেন, আনিসুল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অভিযোগপত্র দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হবে।
গত সোমবার আদাবরের ওই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়া আনিসুল করিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ গুরুত্বসহকারে মামলাটির তদন্ত করছে। বৈধ অনুমোদন না থাকায় পুলিশ হাসপাতালটি বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
