বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো ‘হ্যারি পটার’ উপন্যাসের সলাজার স্লিদারিংয়ের বশ করা সবুজ বিষধর সাপের দেখা মিলেছে। মার্কিন লেখিকা জে কে রোলিংয়ের উপন্যাসে অধ্যাপক সলাজার ওই সাপের সঙ্গে কথা বলতেন।
সাপটির গায়ের রঙ কচিপাতার মতো সবুজ। শরীরে সামান্য লালের ছোঁয়া। ভারতের অরুণাচল প্রদেশের জঙ্গলে এর দেখা মেলে। কেউটে, গোখরা, শঙ্খচূড়েরর মতো এই সাপ ‘কোবরা’ গোত্রের নয়। ভাইপার গোত্রের। ভাইপারদের বিষ ভয়ঙ্কর।
এদের চোখ আর নাকের মাঝামাঝি ছোট্ট গর্তের মতো সংবেদী স্নায়ু আছে। যার সাহায্যে যে কোনো প্রাণীর দেহে উষ্ণ রক্তের চলাচল বুঝলেই ছোবল বসায়।
হ্যারি পটারে বর্ণিত হুবহু সেই চেহারার সবুজ সাপটি বিষয়ে অরুণাচলের বন দফতরের এক পদস্থ কর্তা জানান, বিজ্ঞানীরা নতুন এই সাপের প্রজাতির নাম রেখেছেন ‘সলাজার পিট ভাইপার’। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় নাম ‘ট্রিমেরিসোরাস সলাজার’।
২০১৯ সালের জুলাইয়ে বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল সেন্টার অফ বায়োলজিক্যাল সায়েন্স এবং বম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির একদল সমীক্ষক অরুণাচলের পাক্কে ব্যাঘ্র প্রকল্পে গিয়েছিলেন নতুন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর সন্ধানে। দু’টি প্রজাতির কচ্ছপসহ বেশ কয়েকটি সরীসৃপের নমুনা সংগ্রহ করেন তারা। তার মধ্যেই ছিল সবুজ ওই সাপটি। ওই ধরনের সাপের বিভিন্ন গোত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন যে, এটি একটি নতুন প্রজাতি। আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে এই আবিষ্কারের কথা প্রকাশ হতেই হইচই পড়ে যায়।
এর একটি কারণ, সাপটির নাম ‘ট্রিমেরিসোরাস সলাজার’। যে নামকরণে অমর হয়ে গেল রোলিংয়ের তৈরি চরিত্র জাদুবিদ্যায় পারদর্শী সলাজারও।
সমীক্ষকেরা ছ’টি রাত ওই গহন অরণ্যে কাটিয়েছেন নতুন প্রজাতির প্রাণী খোঁজার আশায়। সেই সময়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে পথের ধারে ঝোপের মধ্যে দেখা যায় তিনটি সালাজার ভাইপার। দু’টিকে তারা নমুনা হিসেবে সঙ্গে করে নিয়ে যান। একটি ঝোপের আড়ালে এমন ভাবে গা ঢাকা দেয় যে, তাকে আর দেখাই দেয়নি। ভারতে ২২ ধরনের সবুজ পিট ভাইপার্স রয়েছে। এটি যে তাদের কোনো গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা বোঝা গিয়েছে।
সবুজ পিট ভাইপার্স সাপের বংশের এই সাপটির মাথা ও শরীরে ইটের রংয়ের লাল বা কমলা দাগ রয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এটি সাপের একটি নতুন প্রজাতি।
জীববিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান গবেষকেরা বলছেন, অরুণাচল ও অসমের নর্থ কাছাড় পার্বত্য এলাকার জঙ্গলে এখনও সে ভাবে ‘উন্নয়নের কুফল’ পৌঁছতে পারেনি। পর্যটকদের যাওয়া-আসাও সীমিত। তাই খুঁজলে আরও নতুন নতুন সরীসৃপ, উভচর এবং পতঙ্গের নমুনা পাওয়া যেতে পারে ওই এলাকায়।
