সিলেটে ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যু

হত্যার আলামত নষ্টকারীদের গ্রেপ্তার দাবি মায়ের

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২০, ০২:০৩ এএম

সিলেট নগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবক রায়হান আহমদের (৩৫) মৃত্যুর পর ওই হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওত্তায় আনার দাবি জানিয়েছেন তার মা সালমা বেগম। গতকাল শনিবার বিকালে সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।

ছেলের মৃত্যুর পর তার শার্ট, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ এখনো পাননি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সালমা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যার মূল আসামি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া গ্রেপ্তার হলেও এইহত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্টকারীরা এখনো ধরা পড়েনি। তাই সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে অবিলম্বে আলামত নষ্টকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার দিন আমার ছেলের পরনে নীল রঙের টি-শার্ট ও প্যান্ট ছিল। কিন্তু হাসপাতালে যখন তার লাশ পাই তখন তার পরনে লাল রঙের একটি শার্ট ছিল। প্যান্টও বদলানো হয়েছে। এটা কারা করেছে, আমরা জানতে চাই। এছাড়া আমার ছেলের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ এখনো পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। মূলত আলামত নষ্টের জন্যই এসব করা হয়েছে। এটা কারা করল?’

মামলার তদন্তে আস্থা আছে জানিয়ে সালমা বেগম বলেন, ‘মামলার তদন্ত নিয়ে আমি সন্দেহ করি না। কেননা পুলিশের তৎপরতার কারণেই আমার ছেলে হত্যার মূল অভিযুক্ত পলাতক এসআই আকবর ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু আমার নিরপরাধ ছেলেকে কারা, কী জন্য মারল এ বিষয়টি এখনো বেরিয়ে আসেনি। এএসআই আশেক এলাহিসহ অন্য পুলিশ সদস্যরাও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এটা নিয়ে আমি চিন্তিত। তবে মূল আসামি এসআই আকবরকে গ্রেপ্তার করায় আমি পুলিশের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে বৃহত্তর আখালিয়া সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান এবং আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ রায়হান হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রায়হান হত্যা মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়েজ আহমদ, অ্যাডভোকেট তাজ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট ফয়েজ উদ্দিন, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াস, সাবেক কাউন্সিলর জগদীশচন্দ্র দাস, রায়হানের মামা শওকত আলী প্রমুখ।

গত ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার প্রয়াত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমদকে ধরে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় পুলিশের মোবাইল ফোন থেকে বাসায় ফোন করে রায়হান বলেছিলেন, তাড়াতাড়ি ১০ হাজার টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে গিয়ে তাকে বাঁচাতে। পরে তার চাচা ফাঁড়িতে ছুটে গেলেও পুলিশ জানায়, রায়হান অসুস্থ হওয়ায় তাকে ওসমানী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে গিয়ে মর্গে রায়হানের লাশ পান স্বজনরা। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যুর ধারায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পিবিআই। পিবিআই দায়িত্ব নেওয়ার পর রায়হানের লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে বরখাস্তের পর গত ১২ অক্টোবর তিনি গা ঢাকা দেন। অবশেষে গত ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাটের ডোনা সীমান্তে ধরা পড়েন আকবর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত