বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকে আমরা যে গভীর সংকটে, সেই সংকট থেকে কাটিয়ে উঠতে হলে আমাদের অবশ্যই মওলানা ভাসানীকে অনুসরণ করতে হবে, তার দেওয়া দর্শন নিয়ে এগোতে হবে।’ গতকাল বুধবার মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় ভাসানীর রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে আমরা যারা গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলি, কাজ করি, আমরা যারা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি, তাদের কাছে মওলানা ভাসানী সত্যিকার অর্থে একজন দেবতার মতো মনে হয়। তিনিই আমাদের দেখিয়েছেন যে মানুষের কী জন্য মুক্তি দরকার, স্বাধীনতা দরকার, সার্বভৌমত্ব দরকার। সেই ব্রিটিশ দাস থেকে শুরু করে যে লড়াই করছেন, সংগ্রাম করছেন এই মানুষের জন্য, স্বাধীনতার জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য।’
তিনি বলেন, ‘মওলানা ভাসানী সমাজকে বদলে দিতে চেয়েছিলেন, তিনি একেবারে শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। সে জন্য যারা সমাজের বিত্তশালী, যারা সমাজে প্রভাবশালী, যারা বিত্তের পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন তারা কখনোই মওলানাকে ভালো চোখে দেখেননি। সে কারণে সাম্রাজ্যবাদের যারা পূজারি তারা তাকে বলতেন ভায়োলেন্স। আর যারা আধিপত্যবাদের পক্ষে কথা বলেন, তারা তাকে বলেছেন, তিনি একেবারেই একজন মৌলবাদী মানুষ।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মওলানা ভাসানী ধার্মিক ছিলেন কিন্তু একেবারে অসাম্প্রদায়িক ছিলেন, অসাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তিনি আজীবন লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন। মওলানা ভাসানী আমাদের সামনে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। যে নক্ষত্র ধ্রুবতারার মতো, যে নক্ষত্রকে সামনে নিয়ে আমরা এগোতে পারি। তিনি বাংলাদেশে যে প্রজন্ম সৃষ্টি করেছেন, সেই প্রজন্ম হচ্ছে সামনে এগিয়ে চলার প্রজন্ম। যারা সামনে এগিয়ে যেতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘মওলানা ব্রিটিশের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, পাকিস্তানের উপনিবিশবাদ ও তার শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন এবং বাংলাদেশকে যারা নিজস্ব সম্পত্তি বানাতে চেয়েছিল, বাংলাদেশকে যারা নিজস্ব প্রপার্টি বানাতে চেয়েছিল, বাংলাদেশের সবকিছুকে যারা নিজেদের বলে দাবি করেছিল, তাদের বিরুদ্ধেও তিনি সংগ্রাম করেছেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের পর ভারতীয় সেনাবাহিনীকে যে প্রত্যাহার করা হলো তার আগে কিন্তু মওলানা ভাসানী সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহারের জন্য সারা দেশে আন্দোলন করেছিলেন, ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন করেছিলেন।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী পালন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল নোমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বিএনপি নেতাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, বরকতউল্লা বুলু, আবদুল হাই শিকদার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অঙ্গসংগঠনের আনোয়ার হোসেইন, আবুুল কালাম আজাদ, মাওলানা শাহ নেছারুল হক, হাসান জাফির তুহিন, মওলানা ভাসানীর দৌহিত্র মাহমুদুল হক শানু প্রমুখ।
