রাঙ্গামাটি জেলার সড়ক উন্নয়নে পরামর্শক নেবে ৮ কোটি টাকা

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২০, ১১:৫৮ পিএম

‘রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের কারিগরপাড়া থেকে বিলাইছাড়ি উপজেলার হেডকোয়ার্টার সংযোগ সড়ক নির্মাণে পরামর্শক খাতে ৮ কোটি টাকা চায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।  নতুন সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের ব্যাপক অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রকল্প প্রস্তাবে পরামর্শক খাতে টাকা চাওয়া অব্যাহত আছে। এত এত নতুন সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নের অভিজ্ঞতা থাকলেও বারবার কেন এ খাতে টাকা চাইছে এলজিইডি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। পরিকল্পনা কমিশন পরামর্শ দিয়ে বলেছে, কনসালট্যান্সিতে এত টাকা অপচয় না করে প্রয়োজনে নিজস্ব জনবলকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।  সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের এ-সংক্রান্ত প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটির বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬১ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের পর চলতি বছরের জুলাই থেকে জুন ২০২৪ সালে বাস্তবায়ন করবে এলজিইডি। এই প্রকল্পের ওপর পিইসি সভা করতে কার্যপত্র তৈরি করা হয়েছে। পিইসি সভায় আলোচনা করতে প্রকল্পটির যাচাই-বাছাই কার্যপত্রে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পে কনসালট্যান্সি খাতে ৮ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রয়োজনে এলজিইডির নিজস্ব জনবলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কনসালট্যান্টের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। এ জন্য কানসালট্যান্টের পরিমাণ যেটুকু প্রয়োজন শুধু সেটুকু রেখে কম গুরুত্বপূর্ণ কনসালট্যান্ট বাদ দিতে হবে। তা ছাড়া পরামর্শকের ধরন, সংখ্যা, জনমাস, সম্মানীর পরিমাণ ইত্যাদির বিস্তারিত ব্যয় বিভাজন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা বা ডিপিপিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, করতে বলা হয়েছে।

কার্যপত্রে পরিকল্পনা কমিশনের মতামতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় উপজেলা ও গ্রামীণ সড়কে ৯০২ মিটার ব্রিজের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ব্রিজ ১০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যরে। এগুলোর জন্য হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল সমীক্ষা করা আবশ্যক হলেও এ ধরনের সমীক্ষা না করেই প্রস্তাব করা হয়েছে। সমীক্ষা প্রকল্পের আওতায় হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল সমীক্ষা করে এগুলো নির্মাণ করতে হবে। সমীক্ষা সম্পন্ন হলে অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ ও মূল্য ভিপিপিতে উল্লেখ করতে হবে। ৪৪ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার উপজেলা ও গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে প্রতি কিলোমিটারে একক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি টাকা, যা অধিক বলে প্রতীয়মান। বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় বৃক্ষরোপণ বাবদ ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। পাহাড়ি সড়কের ক্ষেত্রে সড়কের বাঁকে বৃক্ষরোপণকে নিরুৎসাহিত করা হয়। প্রকল্প এলাকা বৃক্ষশোভিত হওয়ায় বৃক্ষরোপণ অঙ্গটি বাদ দিতে হবে। প্রকল্পের আওতায় ২১ একর ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ১০ কোটি টাকা (প্রতি একর ৪৭ দশমিক ৬২ লাখ টাকা) প্রস্তাব করা হয়েছে।  কৃষি জমি সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনা করে ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ যথাসম্ভব হ্রাস করতে হবে।

এ ছাড়া, প্রকল্পের আওতায় ১৩ জন জনবলের প্রস্তাব করা হয়েছে এবং আউটসোর্সিং বাবদ ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু জনবলের বিষয়ে অর্থ বিভাগের জনবল কমিটির কোনো সুপারিশ ডিপিপিতে যুক্ত করা হয়নি। জনবল কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী জনবলের সংখ্যা ও ব্যয় প্রাক্কলন করতে হবে। প্রকল্পের আওতায় মেরামত, সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন খাতে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং বিবিধ ব্যয় মোট ৩০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব অঙ্গের ব্যয় যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। এ বিষয়ে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, এই প্রকল্পে কিছু ব্যয় অস্বাভাবিক প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হবে। এর আগেও আমরা অনেক প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় যৌক্তিক হারে কমিয়ে দিয়েছি।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে এ এলাকার জনগণকে জেলার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নৌপথে যাতায়াত করতে হয়। যাতায়াতব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও টেকসই অবকাঠামোর অভাবে বিলাইছড়ি উপজেলার জনগণ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিলাইছড়ি উপজেলাটির স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মন্দির, বৌদ্ধমন্দির, কমিউনিটি ক্লিনিক, বাজার, হাট ইত্যাদিতে যাতায়াতের পথ সুগম হবে। এ ছাড়া মাংস ও কৃষিপণ্য জেলা শহরে পরিবহন সহজ হবে।

ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। দুর্যোগকালে জরুরি সেবা ও ওষুধ পরিহবহন সহজ হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত