যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। তবে এখনো হার স্বীকার করেননি রিপাবলিকান নেতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে প্রথা অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়। ট্রাম্পের কার্যকলাপ ও কথাবার্তায় মনে হচ্ছে হোয়াইট হাউজ দখলে রাখতে নানা চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্টের এমন কর্মকাণ্ডে তার সহযোগীদের মধ্যেই ধীরে ধীরে অসন্তোষ আর বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কিছু বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা বাইডেনের ট্রানজিশন টিমের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ শুরু করেছেন। সিএনএন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী নিশ্চিত হলেও দেশটির সাধারণ পরিষেবা প্রশাসন (জিএসএ) জো বাইডেনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেনি। ফলে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও তার ট্রানজিশন টিম বিভিন্ন ফেডারেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ, নতুন প্রশাসনে কর্মকর্তা নিয়োগে প্রয়োজনীয় তহবিল এবং গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যাদি থেকে এখনো বঞ্চিত। এর মধ্যেই বাইডেনের টিমের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ শুরু করেছেন হোয়াইট হাউজের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা।
ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, তারা বাইডেনের টিমের সঙ্গে এই যোগাযোগকে দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে দেশের প্রতি দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখছেন।
যদিও দুই পক্ষের মধ্যে এই আলোচনা আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার মতো অত বড় পরিসরে কিছু নয়। তবে এর মাধ্যমে হোয়াইট হাউজের দায়িত্ব নিতে আগামী দিনগুলোতে বাইডেনের ট্রানজিশন টিমের সদস্যরা কী কী বাধার মুখে পড়তে পারেন, সে সম্পর্কে তারা কিছুটা ধারণা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সূত্রটি।
কয়েক মাস আগে পদত্যাগ করা হোয়াইট হাউজের আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি নিজেই বাইডেনের টিমের এমন একজনের কাছে ইমেইল করেছেন, যিনি নতুন প্রশাসনে তার মতো একই পদে দায়িত্ব পেতে পারেন। ওই ব্যক্তিকে নিজ থেকেই সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্পের সাবেক এই সহকর্মী।
বাইডেনের ট্রানজিশন টিমের সঙ্গে যোগাযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান এক কর্মকর্তা। তবে এর মাধ্যমে তাদের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।
গোপনে যোগাযোগের বিষয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, এটা শুধুই সহযোগিতা করার প্রস্তাব। তারা জানে আমরা কী বলতে চেয়েছি, আর আমরা কোনটা করতে বা বলতে পারব, কোনটা পারব না। এসব গোপন যোগাযোগ থেকে এখনো ফলদায়ক কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বাইডেনের টিমের এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাও ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
ট্রানজিশন টিমের আরেক সদস্য বলেছেন, তারা এই যোগাযোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি ঘটছে অতীতে সুসম্পর্কের জেরে। তবে এগুলো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার ধারেকাছেও নেই।
