বসল ৩৮তম স্প্যান

পদ্মা সেতু পৌনে ৬ কিলোমিটার দৃশ্যমান

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৫৪ এএম

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ৩৮তম স্প্যান বসানো হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে সেতুর ১ ও ২ নম্বর পিলারের ওপর ৩৮তম স্প্যান ‘১-এ’ বসানো হয়। এর মধ্য দিয়ে সেতুর ৫ হাজার ৭০০ মিটার অর্থাৎ পৌনে ৬ কিলোমিটার দৃশ্যমান হলো। সেতু সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, উপজেলার কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে গতকাল সকাল ৯টার দিকে স্প্যান নিয়ে ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই নির্ধারিত পিলারের উদ্দেশে রওনা হয়। এরপর ক্রেনটি নির্ধারিত পিলারের কাছে পৌঁছলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা স্প্যানটি বসানোর কার্যক্রম শুরু করেন। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে ৩৮তম স্প্যান বসানো সম্পন্ন হয়।

৩৮তম স্প্যান বসানোর পর পদ্মা সেতুতে বাকি রইল ৩টি স্প্যান। ইতিমধ্যেই জাজিরা প্রান্তে সবগুলো স্প্যান বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। গত ১২ নভেম্বর ৩৭তম স্প্যান বসানো হয়। আগামী ২৩ নভেম্বর ১০ ও ১১ নম্বর পিয়ারে ৩৯তম স্প্যান ‘২-ডি’, ২ ডিসেম্বর ১১ ও ১২ নম্বর পিয়ারে ৪০তম স্প্যান ‘২-ই’ ও ১০ ডিসেম্বর ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারে ৪১তম স্প্যান ‘২-এফ’ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সেতুর ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ১ হাজার ৪১টির  বেশি রোড স্ল্যাব বসানো হয়েছে। আর ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে এখন পর্যন্ত বসানো হয়েছে ১ হাজার ৫০০টির বেশি।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০  সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা  সেতু। এরপর একে একে বসানো হয় ৩৪টি স্প্যান। ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার  দৈর্ঘ্যরে ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে সব কটি পিয়ার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালেই খুলে দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত