যৌতুক না পাওয়ার জের

স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ চট্টগ্রামের ইয়াসমিন ঢামেক বার্ন ইউনিটে

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৫৫ এএম

চট্টগ্রামে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ ইয়াসমিন আক্তার সুইটিকে (৩০) উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে যৌতুক নিয়ে ইয়াসমিন ও তার স্বামী সলিমুল্লাহ রাফেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জেরে ওইদিন গভীর রাতে স্ত্রী ইয়াসমিনের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন রাফেল।

শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, ইয়াসমিনের শরীরের ২৫ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়।

হাসপাতালে দগ্ধ ইয়াসমিনের ছোট ভাই রবিউল হোসেন মুন্না জানান, তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রকোনা লিচুবাগান এলাকায়। আর তার বোন ইয়াসমিনের স্বামী মো. সলিমুল্লাহ রাফেলের বাসা চন্দ্রকোনা পূর্ব কোদালা গোয়ালপুরা এলাকায়। পাঁচ বছরের ছেলে রাফিকে নিয়ে স্বামীর বাসাতেই থাকতেন ইয়াসমিন। ৭ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তার স্বামী রাফেল প্রথমে ইট-বালুর ঠিকাদারি করতেন। পরে তাকে ইয়াসমিনের বাবার বাড়ির মাধ্যমে ইন্টারনেট কেব্ল ব্যবসায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করতেন রাফেল। তারপরও তিনি বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিতেন। পরে আর ঋণ পরিশোধ করতেন না। ঋণ পরিশোধের জন্য ইয়াসমিনকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন রাফেল। ইয়াসমিন বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকাও এনে দিয়েছেন। বেশ কিছুদিন ধরে রাফেল নিয়মিত বাসায় বাজার করেও দিতেন না। রাত করে বাসায় ফিরতেন। এ ছাড়া তার মোবাইল ফোনে বিভিন্ন মেয়েদের কল-মেসেজ আসতো। এসব নিয়ে ইয়াসমিনের সঙ্গে ঝগড়া হতো রাফেলের। এ কারণে রাফেল তাকে মারধরও করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাসা ফাঁকা পেয়ে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে রুমের দরজা আটকে মোটরসাইকেলের পেট্রল ইয়াসমিনের গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। পরে ইয়াসমিন নিজেই কাঁথা দিয়ে শরীর ঢেকে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। সারা রাত দগ্ধ অবস্থায়ই রুমে তাকে আটকে রাখেন স্বামী। এ ছাড়া দগ্ধ ইয়াসমিনের শরীরের ঝলসানো চামড়াও টেনে টেনে তুলে ফেলেন।

স্বজনরা আরও জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ইয়াসমিনের ফোন পেয়ে তারা তার স্বামীর বাসায় যান। সেখানে গিয়ে ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে নিয়ে বাসার দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে প্রথমে উপজেলা সদর হাসপাতাল এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করানো হয় ইয়াসমিনকে। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন চিকিৎসকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত