আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তি হবে দ্রুতই। এখন আমাদের সমাজের দিকে তাকিয়ে মনে হয়, বহু মানুষ বিশেষ করে কমবয়সীরা কি জানে কেন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল? তাদের কি ধারণা আছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বা চেতনা বলতে আসলে কি বোঝায়? মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘বাংলাদেশ মুক্তি-সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’ গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য ছিলেন জিয়াউদ্দিন তারিক আলী। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই গোষ্ঠীর সদস্যরা ট্রাকে করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যেতেন বিভিন্ন শরণার্থীশিবিরে যেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণ থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা অজস্র মানুষ। অনিশ্চিত জীবন কাটানো সেই উদ্বিগ্ন আর হতাশ মানুষদের মনোবল বাড়ানোর জন্য এই গোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশ নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গান গাইতেন সেই শিবিরগুলোতে। কখনো তারা গিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটিতে। গান গেয়েছেন রণাঙ্গনের যোদ্ধাদের মধ্যে। তারিক আলী একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘১৯৭১ সালে দেশে যে গণহত্যা ঘটেছিল সেই কথা এ দেশের মানুষ ২০০৬-০৭ সালে এসে ভুলে গিয়েছে, এই ব্যাপারটা আমাকে খুব ব্যথা দেয় এবং যত দিন আমি বাঁচব তত দিন আমি মনে করব বাঙালি এই ব্যাপারে কৃতঘ্ন জাতি।’
জিয়াউদ্দিন তারিক আলী খুব সম্প্রতি মারা গিয়েছেন। মৃত্যুর আগে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে দেশের মানুষের আগ্রহ আর ধারণা দেখে তার মনে কি স্বস্তি এসেছিল? যারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ মনে ধারণ করেন তাদের এই প্রশ্নটি ভাবা উচিত। জিয়াউদ্দিন তারিক আলী এবং তার মতো আরও বহু মানুষ ৪৯ বছর আগে আমাদের এই মাতৃভূমি মুক্ত এবং স্বাধীন করার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। আমরা তাদের সংগ্রামের সুফল ভোগ করছি। কিন্তু আমরা কি সেই মহান সংগ্রামের কথা মনে রেখেছি? আমরা কি প্রকৃতভাবে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের চর্চা করছি? যদি করে থাকি, তাহলে কেন বর্তমান সময়ে আমাদের দেখতে হয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া দেশে সম্পূর্ণ বেমানান বিভিন্ন পরিস্থিতি আর আচরণ?
পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আমাদের ওপর চাপিয়েছিল অর্থনৈতিক শোষণ। সামরিক সুরক্ষা আমরা পাইনি, দেওয়া হয়নি রাজনৈতিক অধিকার। তারা আঘাত করেছে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর। তারা মনে করেছে আমরা পরিপূর্ণভাবে মুসলমান না, কারণ আমরা উর্দু বা আরবিতে কথা না বলে বাংলায় কথা বলি যে ভাষার বর্ণমালা আরবির মতো না। তারা বাঙালিদের অপছন্দ করেছে কারণ আমরা রবীন্দ্রসংগীত শুনি। পশ্চিম পাকিস্তানিরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে দেখেছে একজন ভারতীয় আর হিন্দু হিসেবে। কিন্তু বাঙালিদের কাছে তিনি তাদের নিজের ভাষার কবি এবং সাম্প্রদায়িক চিন্তা দিয়ে সংস্কৃতি বিভক্ত করার সংকীর্ণতা বাঙালিরা দেখায়নি। যখন পাকিস্তানিদের শোষণ আর পীড়ন বহু বছর সহ্য করার পর ন্যায্য অধিকারের জন্য বাঙালিরা প্রতিবাদমুখর হয়েছিল তখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আর সামরিক বাহিনীর জেনারেলরা ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর পরিকল্পনা করেছে। তারা ভেবেছে কয়েক হাজার বাঙালিকে হত্যা করলে বাঙালিরা আর প্রতিবাদ করার সাহস পাবে না। পাকিস্তানি সৈনিকরা এরপর আধুনিক মারণাস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে অসংখ্য নিরস্ত্র বাঙালি। ধর্ষণ করেছে বাঙালি নারীদের।
কিন্তু বাঙালিরা ভীত হয়নি। পরাক্রমশালী মার্কিন সামরিক বাহিনী যেমনভাবে পরাস্ত হয়েছিল ভিয়েতনামের কৃষকদের কাছে, একইভাবে অল্প কয়েক মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে যোগ দেওয়া বাঙালি ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক আর অল্পসংখ্যক বাঙালি সৈনিক, ইপিআর, আর পুলিশ সদস্য অসীম সাহসিকতার সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করেছিল পৃৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে। ৯ মাস পর পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেছিল ক্ষমতার দাপট দেখানো পাকিস্তানি বাহিনী। তাই, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ এবং চেতনা হলো ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে, অত্যাচার আর শোষণের বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতা আর ধর্মীয় সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে অবস্থান আর প্রতিবাদ। যখন মাতৃভূমি স্বাধীন করার জন্য মৃত্যুকে ভয় না পেয়ে লড়াই করছিল এ দেশের অগণিত মানুষ, তখন কিছু বাঙালি হয়েছিল পাকিস্তানিদের দোসর ও দালাল। তাদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল আলবদর, আলশামস আর রাজাকার বাহিনী। আলবদর বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাপুরুষতা আর পৈশাচিকতার প্রমাণ দিয়েছিল দেশ স্বাধীন হওয়ার কয়েক দিন আগে। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তারা ধরে নিয়ে এসেছিল দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের। তারপর অবিশ্বাস্য নিষ্ঠুরতা দেখিয়ে হত্যা করেছিল সেই আলোকিত মানুষদের যেন বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও প্রগতিশীল চিন্তাধারা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা ছড়িয়ে দেওয়ার মতো বুদ্ধিউজ্জ্বল মানুষের অভাবে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পাকিস্তানিদের এ দেশীয় সেই দালাল আর দোসরদের মনে ছিল সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের নাৎসি বাহিনী ইহুদিদের প্রতি যেমন নির্দয়তা দেখিয়েছিল, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সৈনিকরা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সেই ধরনের আক্রোশই দেখিয়েছে। পাকিস্তানিদের বিদ্বেষ ছিল অসাম্প্রদায়িক, মুক্তিযুদ্ধ সমর্থনকারী মুসলমানদের প্রতিও। শ্রেণি-ধর্ম-নির্বিশেষে বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধ করার মাধ্যমে পাকিস্তানিদের সাম্প্রদায়িক মানসিকতা প্রত্যাখ্যান করেছে। দুঃখ হয়, আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিভিন্ন দিক ঠিকই টিকে আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাকিস্তানিদের দোসর ছিল তারা স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় মন্ত্রীও হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের কথা বলা রাজনৈতিক দল নিজেদের সুবিধার জন্য ধর্মীয় সংকীর্ণতায় আচ্ছন্ন বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে। কিন্তু এ ধরনের মৌলবাদী গোষ্ঠী প্রশ্রয় পাওয়ার ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই চিন্তা রাজনৈতিক দলগুলো করেনি।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকা পাকিস্তানপন্থি বাঙালিরা মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ের পর লুকিয়ে পড়ে। কেউ দেশত্যাগ করেছিল। কিন্তু সুযোগ পেলেই তারা সক্রিয় হয়েছে। ১৯৭৪ সালে যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো তিন দিনের সফরে ঢাকা এসেছিলেন তখন ঢাকার রাজপথে ভুট্টোর প্রতি এক শ্রেণির মানুষের উচ্ছ্বাস প্রকাশ ছিল অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। ভুট্টোর গাড়ি পথ দিয়ে যাওয়ার সময় এই মানুষরা ভুট্টো আর পাকিস্তানের পক্ষে সেøাগান দিয়েছিল। বিমানবন্দরে ভুট্টোকে স্বাগত জানাতে যেন তাকে যেতে না হয় এ কারণে সেই সময় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার সুবিমল দত্ত পদত্যাগ করেছিলেন। পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন ভুট্টোর হাতে বাংলাদেশের মানুষের রক্তের দাগ লেগে আছে। অথচ বাংলাদেশের যে মানুষরা ভুট্টোকে নিয়ে মাতামাতি করেছিল তারা মাত্র তিন বছর আগে বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের ঘটানো গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ আর ধ্বংসলীলার কথা ভুলে গিয়েছিল বা বলতে হয় সেই পাকিস্তানপন্থি মানুষরা বাংলাদেশে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর চালানো সেই ধ্বংসযজ্ঞে ব্যথিত হয়নি। আজ স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও কি বাংলাদেশে বসবাসকারী কিছু বাঙালি ১৯৭১ সালের সেই পাকিস্তানি নেতারা, সামরিক জেনারেল এবং তাদের বাঙালি দোসরদের মানসিকতা ধারণ করছে না?
ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীর আস্ফালন আমাদের সমাজে এখনো দেখতে হচ্ছে। এই গোষ্ঠী তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অনুসরণ করে না। বরং মুক্তিযুদ্ধ যে সাম্প্রদায়িকতা আর ধর্মীয় অন্ধত্ব প্রত্যাখ্যান করেছে সেই সংকীর্ণতার প্রতিই এদের সমর্থন। এই গোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে তোয়াজ করা হলে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের প্রতি মর্যাদা প্রদর্শন করা হয় না। বরং, প্রশ্রয় দেওয়ার ফলে এই গোষ্ঠীর ভিত মজবুত হবে সমাজে, আর সেই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়বে সেই চিন্তাধারা, যা মানুষের মনে তৈরি করবে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা আর যুক্তিহীনতা। কলকাতায় পূজার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার কারণে সাকিব আল হাসানকে হত্যার হুমকি দিয়েছে এক তরুণ। অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমুন্নত রেখে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া দেশে এমন সাম্প্রদায়িক মানসিকতা দেখতে পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর মূল্যবোধ সম্পর্কে এই ব্যক্তি এবং তার মতো অন্যদের কি আদৌ কোনো ধারণা আছে? ২০১৬ সালে গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় কমবয়সী জঙ্গিরা বীভৎস নির্মমতার সঙ্গে নিরীহ নিরস্ত্র মানুষদের খুন করার মাধ্যমে অনুসরণ করেছিল আলবদর সদস্যদের। বাঙালি মুক্তিযোদ্ধারা তো নিরীহ নিরস্ত্র মানুষদের হত্যা এবং ধর্ষণ করেনি। তারা যুদ্ধ করেছিল গণহত্যা চালানো আধুনিক অস্ত্রধারী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। এটাই দুঃখজনক যে স্বাধীন বাংলাদেশে কিছু বাঙালি তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শ অনুসরণ না করে হয়ে ওঠে ধর্মান্ধ জঙ্গি।
আমার পেশাগত অভিজ্ঞতায় আমি দেখতে পাই দেশের সবচেয়ে নামকরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে এখন খুব কমই জানে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি তারা পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তেমন আলোচনা শোনেনি। হালকা বিনোদন জোগানো উপাদান আমাদের গণমাধ্যমে উপস্থাপিত হয় প্রায়ই। অথচ মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কতটা নিয়মিতভাবে তথ্য আর অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে মূলধারার গণমাধ্যমে? জহির রায়হানের স্টপ জেনোসাইড, আলমগীর কবিরের লিবারেশন ফাইটার্স, শুখদেবের নাইন মান্থস টু ফ্রিডম, ভানিয়া কিউলির মেজর খালেদ’স ওয়ার, তারেক মাসুদ আর ক্যাথরিন মাসুদের মুক্তির গান, তানভীর মোকাম্মেলের ১৯৭১-সহ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন তথ্যচিত্র টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে নিয়মিত দেখানো কি খুব কঠিন? জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে খুব কি কঠিন দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ১০০টি কিংবা ৫০টি মুক্তিযুদ্ধের বই নিয়ে পাঠাগার তৈরি করা আর কমবয়সীদের সেই বইগুলো পড়তে অনুপ্রাণিত করা? মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা যদি কেবল গুটিকয়েক মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যায় আর ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা’ এই কথা হয়ে ওঠে কেবল মুখের বুলি, তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। যদি প্রকৃত অর্থেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমরা সমুন্নত রাখতে চাই, তাহলে মানুষের মধ্যে এই চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ সরকারি এবং ব্যক্তিগত সব পর্যায়েই গ্রহণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন রাজনৈতিক আচরণও কোনোভাবেই বাঞ্ছনীয় নয়। কারণ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আচরণ করা হলে তা শুধু প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী এবং সংকীর্ণ চিন্তার অনুসারীদেরই শক্তিশালী করবে। মঙ্গল-আলোকের পরিবর্তে অশুভ অন্ধকার তখন ঘনিয়ে আসবে আমাদের সমাজে।
লেখক অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
