ইথিওপিয়ার নোবেলজয়ী প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সেনাবাহিনীর আধিপত্যের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তির নাম দেব্রেসিয়ন গেব্রেমাইকেল। সাবেক এ গেরিলা যোদ্ধা ইথিওপিয়ার সেনাদের কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক বাধাগ্রস্ত করে প্রতিরোধ জারি রেখেছেন। দেব্রেসিয়নের ভাষায় তিগ্রে হলো গোটা জাতির কেন্দ্র। আর সেই কেন্দ্র রক্ষার জন্যই তিনি লড়াই করছেন।
তিগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) নেতৃত্বে আছেন দেব্রেসিয়ন। আবির একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে ইথিওপিয়ার সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠস্বর টিপিএলএফ। এর নেতা দেব্রেসিয়ন ইউনিভার্সিটি অব আদ্দিস আবাবায় পড়াকালীন টিপিএলএফের রাজনীতিতে যুক্ত হন। কমিউনিস্ট শাসক হেইলে মারিয়ামের শাসনের বিরুদ্ধে টানা ১৭ বছর লড়াই চালান তিনি। মারিয়ামের শাসনের পতন হলে দেব্রেসিয়ন নতুন সরকারের মন্ত্রীও হয়েছিলেন। টিপিএলএফ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইথিওপিয়ার ক্ষমতায় ছিল। এ সময়ের মধ্যে দেশটির ব্যাপক উন্নয়ন হয়।
দেব্রেসিয়নের বন্ধু ও কমরেড আলেমায়েহু গেজাহেন নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, তারা উভয়ই সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তিগ্রের পাহাড়বেষ্টিত অঞ্চলে যান এবং সেখানে টিপিএলএফের কমরেডদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ‘টেকনিক্যাল ইউনিট’ খোলেন। সিরের মতো শহরে বড় হলেও দেব্রেসিয়নের চিন্তাধারা অন্য অনেকের চেয়ে উন্নত। স্কুলে থাকাকালীন তিনি পুরনো ব্যাটারি, রেডিও ইত্যাদি মেরামত করতে পারতেন এবং ভাঙা উপাদান দিয়ে তৎকালীন ইথিওপিয়ায় তিনি বাল্বলাইট তৈরিও করেছিলেন।
দেব্রেসিয়নের প্রতিষ্ঠিত টেকনিক্যাল ইউনিটের তৎপরতার কারণে শত্রুর গতিবিধি ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সহজেই জেনে যেত টিপিএলএফ। শত্রুর কমিউনিকেশন ইউনিট জ্যাম করে দেওয়ার কারণে শত্রুসেনারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারত না। আর এ সুযোগেই টিপিএলএফের যোদ্ধারা তাদের ওপর হামলা চালাত। এখানেই থেমে থাকেননি দেব্রেসিয়ন। জাল পাসপোর্ট দিয়ে ইতালিতে যান তিনি। সেখান থেকে ফিরে নিজেদের স্বতন্ত্র রেডিও স্টেশন তৈরি করেন। রাতের আঁধারে পাহাড়ে চড়ে রেডিও সিগন্যালের জন্য অ্যান্টেনা বসাত টিপিএলএফের গেরিলারা। ২০১৮ সালের শুরুর দিকেও দেব্রেসিয়ন ও আবি আহমেদ ছিলেন বন্ধু। মেকেল্লেতে আবিকে ব্যাপক গণসংবর্ধনাও দিয়েছিলেন দেব্রেসিয়ন। তখন আবিকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘তিগ্রে সেই স্থান যেখানে আমাদের দেশের ইতিহাস রচিত হয়েছে। এ অঞ্চলে ইতালি ও মিসরের মতো বিদেশি আধিপত্যবাদীদের পরাজয় হয়েছে। আধুনিক ইথিওপিয়াতে, তিগ্রে হলো ইথিওপিয়ার জরায়ু।’ অথচ এখন আবি আহমেদ সেই তিগ্রে অঞ্চলের বিরুদ্ধেই লড়াই করছেন।
