চার মাস পর ৫০০ কোটি টাকার নিচে ডিএসইর লেনদেন

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২০, ১১:৩৯ পিএম

বীমা ও মিউচুয়াল ফান্ডে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আটকে যাওয়ায় পুঁজিবাজার লেনদেনে আবারও ভাটা পড়েছে। গতকাল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কেনাবেচা হয়েছে ৪৯৫ কোটি টাকা, যা গত চার মাসের সর্বনিম্ন। দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পর গত চার মাসে পুঁজিবাজারে এক দিনের লেনদেনের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার নিচে নামেনি। সর্বশেষ গত ২৯ জুলাই ডিএসইতে ৪০০ কোটি টাকার কম কেনাবেচা হয়েছিল।

লেনদেন কমার জন্য মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দরপতনকে বড় কারণ বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। গত চার মাসে বীমা খাতের শেয়ারে সর্বাধিক বিনিয়োগ হয়েছে। এ সময়ে ডিএসইর লেনদেনের ৪০ শতাংশের বেশি হয় বীমা খাতে। বেশকিছু বীমার শেয়ারদর রাতারাতি বহুগুণ হওয়ার পর নানা সমালোচনার মুখে এখন শেয়ারগুলোর দর কমছে। এতে সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের হাজার হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ আটকে গেছে।

এখন প্রায় একই ঘটনা ঘটছে মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও। গত কয়েক দিনের দরপতনে মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে গেছে। কেনা দরের তুলনায় বাজারদর হঠাৎ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা লোকসানের ভয়ে তা বিক্রি করছেন না। এতে অনেকে নতুন করে শেয়ার কেনাবেচা করার ক্ষমতা হারাচ্ছেন। এছাড়া রবিসহ কয়েকটি আইপিও আবেদনের কারণেও সেকেন্ডারি বাজারের লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মিউচুয়াল ফান্ড মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটিজ নয় এমন তথ্য প্রকাশের পর গত ১৬ নভেম্বর থেকে এ খাতে দরপতন শুরু হয়। পরদিন ১৭ নভেম্বর পাঁচটি মিউচুয়াল ফান্ড নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিলে দরপতন আরও ত্বরান্বিত হয়। এ তদন্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং পুরো বাজারেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ননমার্জিন ও মিউচুয়াল ফান্ড নিয়ে এসইসির তদন্ত কমিটি গঠনের পর থেকেই পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরিমাণ কমছে। গত ১৫ নভেম্বর ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। এরপর থেকেই ধারাবাহিকভাবে লেনদেনের পরিমাণ কমে গিয়ে গতকাল তা ৪৯৫ কোটি টাকায় নেমে আসে। গতকালও ৩৭ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৩টির দরপতন হয়েছে। গড়ে সব ফান্ডের দরপতন হয়েছে ৪ শতাংশের বেশি। এ নিয়ে সর্বশেষ পাঁচ কার্যদিবসে ২০ শতাংশের ওপর দরপতন হয়েছে। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় মিউচুয়াল ফান্ড খাতের লেনদেন পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমেছে।

তবে সাম্প্রতিক দরপতন শুধু এ দুই খাতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং বীমা ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দরবৃদ্ধির ধারা স্থায়ী হতে দেখে অন্য শেয়ার বিক্রি করে এ দুই খাতে বিনিয়োগের কারণে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন, বস্ত্র, সিমেন্ট, সিরামিক খাদ্য ও আনুষঙ্গিকসহ উৎপাদন ও সেবা খাতগুলো খাতের সিংহভাগ শেয়ারে বিনিয়োগ কমে যায়। এতে এসব খাতের শেয়ারও দর হারায়।

দিনের লেনদেন শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪৪ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৭০টির বাজারদর বেড়েছে, কমেছে ১৯৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৭৮টির দর। ক্লোজিং প্রাইসের হিসাবে গতকাল তালিকাভুক্ত ৩৬৪ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৭৬টির বাজারদর ছিল ফ্লোর প্রাইসে। গত বৃহস্পতিবারের লেনদেন শেষে এ সংখ্যা ছিল ৬৩টি। অর্থাৎ গতকাল নতুন করে ১৩টি এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তাছাড়া অন্যসব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর কমলেও মিশ্রধারা ছিল বীমায়। এ খাতের ৪৮ কোম্পানির মধ্যে ২২টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৮টির।

ডিএসইতে গতকাল ৪৯৫ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচার মধ্যে শুধু বেক্সিমকো ফার্মারই ৯৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা (ব্লকে ৪৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার লেনদেনসহ) হয়েছে, যা মোট লেনদেনের প্রায় ১৯ শতাংশ। বেক্সিমকো ফার্মার লেনদেনে ভর করে ওষুধ ও রসায়ন খাতের লেনদেন ১১৬ কোটি টাকা বা মোটের সাড়ে ২৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। খাতওয়ারি লেনদেনে এ খাতের লেনদেন ছিল সর্বোচ্চ। আবার খাতটিতে বেক্সিমকো ফার্মারই লেনদেন ছিল মোটের ৮০ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত