গোল্ডেন মনিরের সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদকের নোটিস

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০৩:৫৬ এএম

বিতর্কিত ও আলোচিত ব্যবসায়ী মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনির এবং তার স্ত্রী রওশন আক্তারের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মনির-রওশন দম্পতির বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের নোটিস পাঠানো হয় বলে কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক আকতার হোসেন আজাদ স্বাক্ষরিত নোটিসে মনির ও তার স্ত্রী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে-বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস এবং অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী জমা দিতে বলা হয়েছে। নোটিস পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হলে অথবা মিথ্যা বিবরণী দাখিল করলে দুদক আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তা প্রণব বলেন, ‘মনিরের নামে কয়েকটি অভিযোগ কমিশনে জমা পড়েছে। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। আশা করা যাচ্ছে এ অনুসন্ধান কাজ দ্রুত শেষ হবে।’

দুদকের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রায় আট বছর আগে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার সম্পদ মা ও স্ত্রীর নামে দেওয়ার অভিযোগে মনিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিল দুদক। আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় ওই মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

গত ২০ নভেম্বর রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় মনিরের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযান শেষে মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে মনিরের ছয়তলা ওই বাড়ি থেকে ১ কোটি ৯ লাখ টাকা, ৪ লিটার মদ, ৮ কেজি সোনা, একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর মনিরের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি মামলা করা হয়। মামলাগুলো তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় মনিরের একটি সোনার দোকান ছিল। সোনা চোরাচালান ব্যবসায় জড়িয়ে ‘গোল্ডেন মনির’ নামে পরিচিতি পান তিনি। তবে ২০০১ সালের পর জমির ব্যবসা শুরু করেন। অভিযানে মনিরের বাড়িতে পাঁচটি গাড়ি পাওয়া যায়, যার মধ্যে তিনটি গাড়ির বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সেগুলো জব্দ করা হয়। মনিরের নামে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ২৬টি প্লট এবং অস্থাবর সম্পদসহ ৬১০ কোটি টাকার তথ্য পেয়েছে দুদক। এর বাইরে প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ ও সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গোল্ডেন মনিরের এ পর্যন্ত ৬১০ কোটি এবং তার স্ত্রী রওশনের নামে প্রায় ৬ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও তাদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ হাজার কোটি টাকার কম নয়। কমিশন এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছে।’

মনির তার স্ত্রী রওশন আক্তারের নামেও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। ৫০০ থেকে ৬০০ ভরি সোনাসহ বাড়ি-গাড়ি-ফ্ল্যাট রয়েছে স্ত্রী ও স্বজনদের নামে। এর মধ্যে স্ত্রীর নামে বাড্ডায় পৌনে তিন কাঠার একটি প্লট, একই মৌজায় ১১ নম্বর রোডে আড়াই কাঠার প্লট এবং ভাটারা থানা এলাকায় আড়াই কাঠার একটি প্লট রয়েছে। এছাড়া গুলশান-১-এর ৬ নম্বর রোডে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ কোটি টাকা। মনিরের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে মনির বিল্ডার্সের ৬০০ শেয়ার এবং মেসার্স গার্লস অটো কারস লিমিটেডের ১ হাজার ৬৫০টি শেয়ার। রয়েছে কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ অঢেল সম্পদ। আর যে পাঁচটি গাড়ি পাওয়া গেছে সেগুলোর মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত