চাকরিজীবীরা দিনের অনেকটা সময় অফিসেই কাটান। অফিসের সজ্জা নান্দনিক হলে মন থাকে চনমনে। কাজের আগ্রহও বাড়ে। অফিসকে পরিচ্ছন্ন, প্রাকৃতিক আর প্রাণবন্ত করার উপায় জানালেন ব্রিজ ইনস্টিটিউট অফ ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালটেন্সির ব্যবস্থাপনাবিষয়ক লেখক ও প্রশিক্ষক সৈয়দ আখতারুজ্জামান
সুন্দর অফিস যেমন কাজের স্পৃহা বাড়ায়, তেমনি দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করাকেও আরও সহনীয় করে তোলে। এই সহনশীলতা বাড়াতে সবুজ রং ভূমিকা রাখে। সুতরাং আপনার অফিসকে ভরিয়ে তুলুন সবুজের সমারোহে।
অফিসে রাখুন পাতাবাহার। হতে পারে ক্যাকটাস, বনসাই, অর্কিড অথবা বাহারি রঙের পাতা-ফুল-লতা। এই ধরনের গাছ দুটো কাজ করে। প্রথমত, বৃক্ষের আনন্দ দেয়। দ্বিতীয়ত, একঘেয়েমি থেকে রক্ষা করে। তবে সভাকক্ষে পাতাবাহার গাছ রাখবেন না। এই গাছ মনোযোগ কাড়ে। সুতরাং জায়গা বুঝে অবস্থান ঠিক করুন।
অফিসে পেইন্টিং রাখুন। করিডর, অভ্যর্থনা কক্ষ, গ্রাহকসেবা কক্ষ অথবা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের রুমে এসব জায়গায় পেইন্টিং রাখা উচিত। পেইন্টিং প্রতিষ্ঠানের রুচি, আভিজাত্য, সংস্কৃতিকে যথাযথভাবে উপস্থাপনে সক্ষম। খেয়াল রাখবেন, উদ্দেশ্যই মুখ্য। সেই উদ্দেশ্য পূরণে কী ব্যবহার করলেন সেটা গৌণ। যেমন, এই একই উদ্দেশ্য সফল করতে পেইন্টিংয়ের জায়গায় ভাস্কর্যও ভালো কাজ করতে পারে।
এবার আপনার কক্ষে আসুন। ফ্লোরের কার্পেটের রং বা মোজাইকের রং থেকে শুরু করে দেয়ালের রং পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ আপনার কক্ষের আলোর পরিমাণ সঠিক হওয়া। আপনার অবস্থানকে কতটা আরামদায়ক বা কর্মোপযোগী হবে তা নির্ভর করে আপনার কক্ষের আলো, বাতাস, রং, তাপমাত্রা এ সবকিছুর ওপর।
ভাবুন, আপনার ডেস্ককে আরও প্রিয় আর প্রাণবন্ত গড়ে তুলতে কী কী করা যেতে পারে। একটা পরিবারিক ছবি থাকতে পারে একপাশে। অথবা প্রিয় কোনো ছবি যা আপনাকে আনন্দ দেয়। স্বপ্নপূরণের ছবি, একটা দারুণ গাড়ি, কিংবা খুব সুন্দর কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্য।
খুঁটিনাটি আরও কিছু দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক। ডেস্কে থাকতে পারে দৃষ্টিনন্দন সুন্দর স্টেশনারি। বাজারে এখন বাহারি রকমের মজার মজার স্টেশনারি পাওয়া যায়। কলম থেকে শুরু করে পেন্সিল, মাউস, মাউস প্যাড, কলমদানি, ঘড়ি, ক্যালেন্ডার, পেপারওয়েট, স্টেপলারসহ হাজারো জিনিস আছে এই তালিকায়।
অফিসের নানা কর্নারে, শেলফে, দেয়ালে রাখুন নানা রকমের শো-পিস। ব্যবহার করতে পারেন সুন্দর সুন্দর উক্তিসমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন ফ্রেমে বাঁধাই করা পোস্টার। শৈল্পিক টেরাকোটার কাজ। সুতা বা পাটের তৈরি ওয়াল ম্যাট। বাঁধাই করা নকশিকাঁথা। এমন আরও কত কিছু! শুধু খেয়াল রাখবেন, এগুলো অফিসের সংস্কৃতি আর গ্রাহকের রুচির সঙ্গে মানানসই হওয়া চাই। এটি কোথায় রাখা যায়? অবশ্যই অফিসের এমন একটি স্থানে যেখানে কাজের বিরতিতে কেউ দুদ- বিশ্রাম নিচ্ছেন, এক কাপ কফি খাচ্ছেন।
অফিসের আলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজনে জানালা বড় করুন, অথবা বড় জানালার রোদ ঠেকাতে শেড বা পর্দা ব্যবহার করুন। জায়গা বুঝে ব্যবহার করতে পারেন ডেস্ক ল্যাম্প, টেবিল ল্যাম্প, টিউব লাইট। প্রয়োজনের তুলনায় কম আলো যেমন চোখের জন্য ক্ষতিকর, কাজকে করে তোলে ক্লান্তিকর, তেমনি তীব্র আলোও সমস্যা তৈরি করে।
যারা দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করেন তারা মনিটর গার্ড ব্যবহার করতে পারেন বা নির্দিষ্ট সময় পর পর একটু চোখের বিশ্রাম নিন।
প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও বেশি সময় ধরে অফিসে থাকতে হয়। ফলে এর গুরুত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। অর্থাৎ ইন্দ্রিয় যা যা অনুভব করে তার প্রতিটিই সুখকর হওয়া দরকার। এসব বিষয় মাথায় রেখেই অফিসে ছোট্ট ক্যাফে, নামাজ কক্ষ থেকে শুরু করে শরীরচর্চা কেন্দ্র পর্যন্ত স্থাপন করা হয়।
