মানব পাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে কুয়েতের আদালতে বিচার চলছে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি শহিদ ইসলাম পাপুলের। তার বিরুদ্ধে করা মামলার রায়ের জন্য ২৮ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছেন বিচারক। তিনি এখন ওই দেশের কারাগারে আছেন। গত বৃহস্পতিবার কুয়েতের অপরাধ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল-ওসমান মামলার রায় ঘোষণার এ তারিখ ঠিক করে দেন বলে জানিয়েছে দেশটির দৈনিক আল-কাবাস।
কুয়েতে গ্রেপ্তারের পর থেকেই পাপুলের সংসদ সদস্য পদ থাকা না-থাকা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। সংসদ অধিবেশনে টানা অনুপস্থিতি বা কুয়েতের আদালতে সাজা হওয়া সাপেক্ষে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়টি সামনে আসে। এই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল সময়সাপেক্ষ বিষয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, রায়ের পরে সংবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনশক্তি রপ্তানিকারক পাপুলকে গত ৬ জুন কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সে দেশের পুলিশ। মানব ও অর্থ পাচার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ আনা হয় বাংলাদেশের এই আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর কুয়েতের অপরাধ আদালতের কাউন্সেলর আব্দুল্লাহ আল-ওসমানের আদালতে পাপুলের বিচার শুরু হয়। সেদিন জামিন আবেদন নাকচ করে পাপুলকে কারাগারে পাঠিয়ে ১ অক্টোবর অভিযোগ শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছিল আদালত।
এর মধ্যে ২৯ সেপ্টেম্বর কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমেদ আল-সাবাহ মারা গেলে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে ছিল। আল-কাবাস লিখেছে, বৃহস্পতিবার আসামিপক্ষের সমাপনী যুক্তিতর্ক শোনেন বিচারক এবং মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করে দেন। পাপুলের সঙ্গে অভিযুক্ত হিসাবে রয়েছেন কুয়েতের দুজন সংসদ সদস্য সাদুন হাম্মাদ আল-ওতাইবি ও সালাহ আবদুলরেদা খুরশিদ। তারা জামিনে রয়েছেন। বাংলাদেশি এমপির কাছ থেকে ‘ঘুষ নিয়ে’ অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত, গত ১১ নভেম্বর পাপুল, তার স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এবং মেয়ে ওয়াফা ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
এছাড়া ‘কাগুজে প্রতিষ্ঠানের’ আড়ালে জেসমিন পাঁচ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়। এসব কাজে পাপুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে সহযোগিতা করেছেন উল্লেখ করে তাদেরও আসামি করা হয়।
