সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর ওপর আজ রবিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হবে।গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে রেল পারাপার হলেও বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে হবে দেশের সব থেকে বড় ডেডিকেটেড ডাবল লেনের এই রেল সেতু। সেতুটি নির্মাণ হলে যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি সিরাজগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংসদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত বক্তব্য দেবেন।
সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু রেলসেতু হবে বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরাল ডুয়েল গেজ ডাবল ট্রাকসহ প্রায় ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার। সেতুর উভয়প্রান্তে প্রায় দশমিক শূন্য পাঁচ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, প্রায় ৭ দশমিক ৬৬৭ কিলোমিটার রেলওয়ে অ্যাপ্রোচ এমব্যাংকমেন্ট অ্যান্ড লুক, সাইডিংসহ প্রায় ৩০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে।
বঙ্গবন্ধু রেল সেতু ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাক হওয়ায় পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী সংশ্লিষ্ট ট্রেনগুলোর ক্রসিংজনিত কারণে আগের মতো স্টেশনগুলোতে অপেক্ষা করতে হবে না। ফলে সংশ্লিষ্ট ট্রেনগুলোর রানিং টাইম আনুমানিক ২০ মিনিট কমবে, পরিচালন ব্যয় কমবে এবং রেলওয়ের আয় বাড়বে। এ সেতুতে গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপন করা হবে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে এ রেল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে। ওই বছরই সেতুটি ট্রেন চলাচলের জন্য চালু করা হবে।
রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেল সেতুটি নির্মাণ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জাইকা। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে কাজ সমাপ্ত হবে। এই রেল সেতু দিয়ে ডাবল লাইন ডুয়েল গেজ হওয়ার পর ক্রসিং ছাড়াই সেতুর ওপর দিয়ে ১০০ কিলোমিটার বেগে একই সঙ্গে দুটি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। পাশাপাশি সব ধরনের মালামাল পরিবহন করতে পারবে এই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতু দিয়ে।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক কামরুল আহসান জানান, উদ্বোধনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হবে। এ জন্য সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ইতিমধ্যে প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্য নব কুমার কর্মকার বলেন, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে সিরাজগঞ্জ শহর হয়ে বগুড়া পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করার দাবি সিরাজগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের। এই সেতুর ভিত্তি স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেই দাবি আরও একধাপ বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ জানান, এই রেল সেতু নির্মাণের ফলে একদিকে সময় সাশ্রয় হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়বে; যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফিরে আসবে সিরাজগঞ্জসহ পুরো উত্তরবঙ্গের প্রাণ।
