পূর্বাচলে নাভানার দখল থেকে ৭৪ শতাংশ জমি মুক্ত

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:০৮ এএম

রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পসংলগ্ন উলুখোলা এলাকায় নাভানা গ্রুপের অবৈধ দখলে থাকা ৭৪ শতাংশ জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ওই জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিককে জমি বুঝিয়ে দেয়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি একেএম মিজানুল হক জমি দখলমুক্ত করার বিষয়টি জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জমিটি দখলমুক্ত করেন। পুলিশ সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিল। উচ্ছেদের সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’ দখলমুক্ত হওয়া জমির মালিক আলী আফজাল খান দুলুর ছোট ভাই নাসির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পূর্বাচলসংলগ্ন কালীগঞ্জ থানার কেটুন মৌজার উলুখোলা বাজারের কাছে আমাদের ৭৪ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করে নাভানা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। আমরা জমিটি দখলমুক্ত করার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হই। প্রায় এক যুগ মামলা চলার পর উচ্চ আদালত থেকে রায় আমাদের পক্ষে আসার পর আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) গাজীপুর জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় জমিটি দখলমুক্ত করা হয়।’

অভিযানের সময় নাভানা গ্রুপের লোকজন দখলমুক্ত হওয়া জমিতে তাদের কিছু মালামাল থাকার কথা জানিয়ে তা সরিয়ে নিতে দুদিন সময় প্রার্থনা করে বলে নাসির উদ্দিন জানান, তারা সেগুলো দুদিনের মধ্যে সরিয়ে নেবে বলে আমাদের লিখিত দিয়েছে। তবে নাভানা গ্রুপের কোন প্রতিষ্ঠান ওই জমিতে ছিল সেটা জানাতে পারেননি নাসির।

গতকাল বিকেলে দখলমুক্ত হওয়া জমিতে গিয়ে সেখানে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়। তার আগে নাভানার গোডাউনসহ টিনের তৈরি গুদামঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে জমিটি পুলিশ ও গাজীপুর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়।

এদিকে উচ্ছেদ অভিযানের ছবি তোলার পর স্থানীয় মাস্তান চক্রের রোষানলে পড়েন দেশ রূপান্তরের আলোকচিত্র সম্পাদক সাহাদাত পারভেজ। দুর্বৃত্তরা তার ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং সেখান থেকে তোলা ছবি মুছে ফেলতে বাধ্য করে। ছবি না মুছলে ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলার হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা। সাহাদাত পারভেজ বলেন, ‘আমি যখন ছবি তুলি তখন নাভানা গ্রুপের লোকজন এলাকাটি ঘিরে রাখে। আমি স্তূপ করে রাখা কিছু পাইপের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময় কয়েকজন আমার দিকে তেড়ে আসে। তারা ছবি ডিলিট না করলে আমার ক্যামেরা ভেঙে ফেলা এবং কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে কয়েকজন ক্যামেরা থেকে ছবি ডিলিট করে।’

কালীগঞ্জ থানার এসআই শহীদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে পূর্বাচল ৪ নম্বর সেক্টরের কাছে উলুখোলা বাজারসংলগ্ন ওই জমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জমি নিয়ে কার সঙ্গে কী বিরোধ সেটা আমরা জানি না। আমরা আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযান শেষে আমরা সেখান থেকে চলে আসি। সাংবাদিক রোষানলে পড়ার বিষয়টি আমাদের জানা নেই।’

উলুখোলায় অবৈধভাবে জমি দখলে রেখে সেখানে স্থাপনা তৈরির বিষয়ে জানার জন্য নাভানা রিয়েল এস্টেটের গুলশানের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘উলুখোলায় আমাদের প্রজেক্ট আছে। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযান বা অবৈধ দখলের বিষয়ে কোনো তথ্য জানি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত