বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় সিকৃবির সাফল্য

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:০৫ এএম

মাছের আশ্রয়স্থল, প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং প্রজনন মৌসুমে অবাধে মাছ শিকারের ফলে অসংখ্য প্রজাতির দেশীয় মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। বিলুপ্ত প্রজাতির এসব দেশীয় মাছের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিস্তার, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করছে সিলেট কৃষি বিশ^বিদ্যালয় (সিকৃবি)। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তাদের উদ্যোগে বিলুপ্তির হাত থেকে বেশ কিছু প্রজাতির দেশি মাছ রক্ষা পেয়েছে।

জানা গেছে, প্রশাসন, বন ও মৎস্য বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের আওতায় এনএটিপিফেজ ২ প্রকল্পের (আইডি নং-০৩৫) অর্থায়নে সিকৃবির মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের জলজসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে ওই বিভাগের প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় কু-ু ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ড. ফয়সাল আহমেদের নেতৃত্বে সারি-গোয়াইন নদী ও তৎসংলগ্ন হাওর ও বিলে দেশীয় মাছের বংশ বৃদ্ধির জন্য গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

এ উদ্দেশ্যে রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টে এবং গুরকচি নদীতে প্রায় তিন একর জায়গায় অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। গুরকচি অভয়াশ্রমে ৫০ জন এবং রাতারগুলে ৩০ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা কমিটি। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করেছে এলাকাবাসী। অভয়াশ্রম তৈরির ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ নতুন করে এসব এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চিতল, ঘোড়া, খারি ও নানিদ।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, শীতের সময় পানি কমে যাওয়ায় মাছগুলো আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে, তাই রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টের একটি বিলে এবং গুরকচি নদীতে অভয়াশ্রম তৈরি করা হয়েছে। অভয়াশ্রমের পাশে জাল ও বাঁশ দিয়ে স্থাপিত পেনে কুশিয়ারসহ বিভিন্ন নদী থেকে ডিমওয়ালা মলা ও ঢেলা মাছ সংগ্রহ করে ছাড়া হয়। প্রজনন মৌসুমে (এপ্রিল ও মে মাস) পেন পদ্ধতিতে লালন-পালন করে জুনে পেন উন্মুক্ত করা হয়। ফলে ভরা বর্ষায় আশপাশের জলাশয়ে এসব মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের দ্বারা অভয়াশ্রমগুলো ব্যবস্থাপনা করায় সহজে রক্ষণাবেক্ষণও সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে উন্মুক্ত জলাশয়ে বর্ষা মৌসুমে খাঁচায় মাগুর, পাবদা, পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছ চাষ করা হচ্ছে। এসব মাছ বিক্রি করে অংশীজন মৎস্যজীবীদের টেকসই আয়ের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সেলাই মেশিন, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান গবেষক মৃত্যুঞ্জয় কু-ু বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে উন্মুক্ত জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাওয়ায় মাছের আশ্রয়স্থল দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া হাওর ও বিল সেচ দিয়ে শুকিয়ে অবাধে মাছ শিকারের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে মলা-ঢেলাসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ। পেনে এসব দেশীয় প্রজাতির মাছ লালন-পালন করায় তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে বংশ বিস্তার করছে। পরে বর্ষায় উন্মুক্ত জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়ায় খুব সহজেই বিলুপ্ত প্রজাতির এসব মাছের বিস্তার ঘটানো সম্ভব হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির অন্যান্য মাছও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত