লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে আবু ইউনুছ মোহাম্মদ সহীদুন্নবী জুয়েলকে (৫০) পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে উপজেলার পৃথক পৃথক এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পাটগ্রাম থানা ও ডিবি পুলিশের একটি যৌথ দল। পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত ও লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের ওসি ওমর ফারুক গতকাল সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন– উপজেলার কামারপাড়া এলাকার মোতাহার হোসেন (২১), আমির হোসেন (৩০), বুড়িমারী লাইনের পাড় এলাকার আতিয়ার রহমান পাইয়া (৩৫) ও বিপ্লব হোসেন (১৯)। এ ঘটনায় দায়ের তিন মামলায় এ পর্যন্ত ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, রেজিস্টার পুড়িয়ে নষ্ট ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে গতকাল বিকেলে তাদের লালমনিরহাট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৩-এ হাজির করে ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত আজ রবিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছে।
গত ২৯ অক্টোবর লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী কেন্দ্রীয় বাজার জামে মসজিদে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে জুয়েল ও তার সঙ্গী একই এলাকার সুলতান রুবায়াত সুমনকে গণপিটুনি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আটকে রাখে স্থানীয়রা। পরে সন্ধ্যায় ইউপি ভবন ভেঙে প্রশাসনের উপস্থিতিতে জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেয় তারা।
এ ঘটনায় ৩১ অক্টোবর নিহতের চাচাতো ভাই সাইফুল আলম, পাটগ্রাম থানার এসআই শাহজাহান আলী ও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ নেওয়াজ বাদী হয়ে পৃথক তিনটি মামলা করেন।
