টবে ফেরা বরফযুগ!

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:০৮ এএম

বরফযুগে বীজগুলো চাপা পড়েছিল ভূ-স্তর থেকে ১২৪ ফুট নিচে পারমাফ্রস্টে। এরপর থেকে ৩২ হাজার বছর ধরে ছিল একই অবস্থায়, বরফচাপা। সম্প্রতি সেই বীজ থেকেই হয়েছে গাছ। ধরেছে ফুলও। বরফযুগের বীজে গাছ জন্ম নেওয়ায় উচ্ছ্বসিত গবেষকরা বলছেন, এ যেন প্রাগৈতিহাসিক যুগের ফিরে আসা!

সে বীজ থেকে যে গাছ জন্ম নেয় তার প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম ‘সাইলেন স্টেলোফাইলা’। এর আগে ২০১২ সালে সাইবেরিয়া থেকে পাওয়া হিমায়িত বীজ থেকে গবেষণাগারে জন্ম নিয়েছিল আরও একটি ‘সাইলেন স্টেলোফাইলা’ প্রজাতির চারাগাছ। তবে সেই বীজের বয়স ছিল ৩০ হাজার বছর। বয়সে আরও দুই হাজার বছরের প্রবীণ হয়ে তাকে টেক্কা দিল সাম্প্রতিক পরীক্ষার বীজটি।

মাটির যে স্তরে বীজগুলো পাওয়া গেছে সেখানে প্রাগৈতিহাসিক ম্যামথ, বাইসন এবং উলি গন্ডারদের হাড়ের অংশও মিশে ছিল। এটি বিশ্বের চিরশীতল অংশ। উত্তর ও দক্ষিণ দুই মেরুসহ বিশ্বের বিভিন্ন অংশে এই স্তর পাওয়া যায়। যখন কোনো ভূভাগের তাপমাত্রা ন্যূনতম দুই বছর বা আরও দীর্ঘ সময় ধরে একটানা ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম থাকে, তখন এই ভূমিরূপ তৈরি হয়।

প্রাণী এবং উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের ধারণা, রাশিয়ার উত্তরপূর্ব সাইবেরিয়ায় কোলাইমা নদীর তীরে ৩২ হাজার বছর আগে এই বীজগুলো জমিয়ে রেখেছিল সাইবেরিয়ান কাঠবিড়ালী। যে দুজন বিজ্ঞানী এর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তারা হলেন স্ভেটলানা ইয়াশিনা এবং ডাভিড গিলিচিন্সকি। তারা দুজনেই রাশিয়ান অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে কর্মরত। এই গবেষণা এবং সাফল্যের ফলে আশা করা হচ্ছে যে, যেসব প্রাণী এবং গাছ পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে সেগুলো হয়তো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। আর যেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, সেগুলোকেও সংরক্ষণ করা যাবে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, চিরতুষার বা পার্মাফ্রস্টের কারণে হারিয়ে যাওয়া জিনও সচল করা সম্ভব। সেই সব জিন যা হারিয়ে গেছে এবং যা প্রাগৈতিহাসিক যুগের আগে পৃথিবীতে বিচরণ করছিল। ইসরায়েলে ‘ডেড সি’ বা মৃত সাগরের কাছে অবস্থিত মাসাদা দুর্গে একটি খেজুরের বীজ পাওয়া গিয়েছিল। এই বীজ দুই হাজার বছরের পুরনো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত