ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অনার্স ও মাস্টার্সের পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এ সময়ে হল খোলা হবে না বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে প্রশাসন। আর এতে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
চলতি বছরের মার্চে করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ হওয়ার পর জুন মাস থেকে অনলাইনে ক্লাস শুরু করে ঢাবি। তবে অনলাইনে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৬ ডিসেম্বর থেকে অনার্স ও মাস্টার্সের পরীক্ষা নেয়া হবে। কিন্তু আবাসিক হল খোলা হবে না। শিক্ষার্থীদের নিজ দায়িত্বে থাকতে হবে।
প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, পরীক্ষা নেয়ার আগে আবাসিক হল খুলে দিতে হবে। আবাসিক হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক।
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াছির রহমান রুদ্র দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে আবাসিক হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা নেয়া সমীচীন নয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পড়তে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের হল ছাড়া থাকার কোনো নিরাপদ আবাসন নেই।
ওই শিক্ষার্থী আরো বলেন, এসব শিক্ষার্থীর থাকার একমাত্র জায়গা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল। পরীক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
দর্শন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী নুর মুহাম্মদ সাগর বলেন, ‘যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া; সেহেতু বলাই যায় এ ফরম্যাটের শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ার কথা নয়। এসব শিক্ষার্থী যথেষ্ট সচেতন এবং তারা তাদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভালোভাবেই বোঝে। তাদের জন্য হলগুলো খুলে দিলে নিজেদের মতো করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবস্থান করে পরীক্ষা দিতে পারবে’।
তবে এ মুহূর্তে হল খোলার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।
তিনি বলেন, ‘ঢাকায় এসে শিক্ষার্থীদের নিজ দায়িত্বে থাকতে হবে। এই মুহূর্তে হল খোলার কোনো চিন্তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই। এর আগে কয়েকটি বিভাগ পরীক্ষা নিয়েছিল। সেখানে শিক্ষার্থীরা নিজ দায়িত্বে ছিল, এবারও সে রকম নিজ দায়িত্বে থাকতে হবে’।
