আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ক্ষমতায় থাকার জন্য বিএনপি যে সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষের লালন-পালন করেছিল, সেটাই আজকে ডালপালা বিস্তার করেছে।
গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা কথায় কথায় আজকে গণতন্ত্রের কথা বলে। তাদের আমলে নাকি গণতন্ত্র ছিল। তাহলে উগ্রবাদ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল। তারাই ক্ষমতায় টিকে থাকতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে দিয়ে, ধর্মীয় উগ্রবাদের সৃষ্টি করেছিল। লালন-পালন করেছিল যে বিষবৃক্ষকে, সেটাই আজকে ডালপালা বিস্তার করেছে। বিচার তো করেইনি, তাদের আশকারা, পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েই আজকে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের অবমাননার মতো দুঃসাহস দেখাতে পারে।
তিনি বলেন, বিএনপি একদিকে দেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে। আবার অন্যদিকে তারা গণতন্ত্রের কথা বলছে। বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, গণতন্ত্রহীনতাই নাকি উগ্রবাদের উত্থান। এই দেশে উগ্রবাদের উত্থান বিএনপির আমলেই ঘটেছে। বাংলাভাই, শায়খ আবদুর রহমানরা কাদের সৃষ্টি?
সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কথা বলে। যাদের রাজনৈতিক দর্শনে ১৯৪৭ সালের সাম্প্রদায়িক চেতনা, যারা দেশকে এখনো পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে চায়, তারা কী করে সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তা দিতে পারে। বিএনপির কাছে স্বাধীনতার চেতনা ছেলে ভোলানো ছড়া কাটার মতো। মুখে বলে কিন্তু অন্তরে বিশ্বাস করে না।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে সরকারকে নাকি কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। বিএনপির মুখে মানবাধিকারের কথা ভূতের মুখে রাম রাম ধ্বনি। তাদের আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখার আহ্বান জানাচ্ছি। পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ড, খুনিদের পুরস্কৃত ও পুনর্বাসিত করা, নিরাপদে দেশত্যাগের সুযোগ তৈরি করে দেওয়াসহ এ হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন কেউ না করতে পারে সেজন্য জেনারেল জিয়া সংবিধানে খুনিদের দায়মুক্তি দিয়েছেন। তারা আজ ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের কথা বলে। অথচ ২১ বছর আমরা জাতির পিতার হত্যার বিচার চাইতে পর্যন্ত পারিনি।
তিনি বলেন, দেশে এখন পৌরসভার নির্বাচন হচ্ছে। ২৫টি মনোনয়ন দিয়েছি। আরও ৬১টি শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের যে প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে তা জেনে-শুনে যাচাই-বাছাই করে নিতে হবে। এর আগে যারা বিদ্রোহ করেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন, তাদের নতুন করে মনোনয়ন দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। তারা বিজয়ী হোন অথবা পরাজিত হোন, তাদের অবশ্যই মনোনয়ন দেওয়া হবে না।
সরকার দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলের এমপি, মন্ত্রী, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদ দিয়ে থাকেন তাদের বিষয়েও শৃঙ্খলাবিরোধী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা নেত্রী স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী বদলে দিয়েছে জীবন প্রবাহ। তবুও জীবন থেমে থাকে না। জীবন একটি চলমান ধারা। জীবনের প্রয়োজনে মানুষ ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হচ্ছে নিউ নরমাল জীবন ধারায়। এরই সঙ্গে বিশ্বের কোথাও কোথাও দ্বিতীয় ঢেউ, আবার কোনো দেশে তৃতীয় ঢেউও আঘাত হেনেছে। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা একে দ্বিতীয় ঢেউ বলে আশঙ্কা করছেন। এ বাস্তবতায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। শতভাগ মাস্ক পরিধানই হতে পারে এই মুহূর্তে ভ্যাকসিনের বিকল্প।
এ সময় ধানমণ্ডির কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।
