দুবাইয়ের দৃষ্টিনন্দন গেইটওয়ে মসজিদ

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:০৫ পিএম

খেজুরগাছের আদলে তৈরি দুবাইয়ের কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম দ্বীপ পাম জুমেইরাহ। এই দ্বীপেরই দুটি হাইওয়ে ব্রিজের বেষ্টনীতে ত্রিভুজাকারের জায়গায় দৃষ্টিনন্দন ‘পাম জুমেইরাহ গেইটওয়ে মসজিদ’ অবস্থিত। দূর থেকে সোজাসুজি তাকালে মনে হয় সমুদ্রতটে সাদা শামুকের খোলসে সোনালি রঙের মুক্তো জ্বলজ্বল করছে। পাশ থেকে তাকালে মনে হয় অর্ধচন্দ্রের ভেতর ডুবে যাচ্ছে সন্ধ্যার সোনালি সূর্য।

নান্দনিক স্থাপত্যের মসজিদটির নকশা করেছে বিশ^বিখ্যাত কানাডিয়ান কোম্পানি ‘সাফদি আর্কিটেক্ট’। ২০০৮ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। পুরো কমপ্লেক্সের আয়তন ১২ হাজার বর্গমিটার। ২ হাজার মুসল্লি এখানে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। ঐতিহ্যবাহী ও গতানুগতিক মসজিদ-স্থাপত্যের ধারণার পুনর্পাঠ করে অভিনব এক নকশা প্রণয়ন করে সাফদি আর্কিটেক্ট।

মসজিদের সামনেই অজুর সুবিশাল পুলসহ বিস্তৃত আঙিনা। সেই আঙিনার ওপরই কংক্রিটের পিলারে ভর করে বিশাল গোলাকার কাঠামোতে মসজিদটি স্থাপন করা হয়। ওপর থেকে নিচের দিকে উপবৃত্তাকারে গোলকের একপাশ কাটা হয়েছে। কাটা অংশটি কেবলামুখী হয়ে ওপরের দিকে ওঠে সর্বোচ্চ উচ্চতায় শেষ হয়। ফলে দূর থেকে দেখতে এটিকে অর্ধচন্দ্র মনে হয়। সেই অর্ধচন্দ্রের মাঝখানেই নামাজঘরটি অবস্থিত। মাঝখানে বিশাল সোনালি গম্বুজ। গম্বুজের চারপাশে খোলা ছাদ। পুরো মসজিদেই দিনের আলো সরাসরি প্রবেশ করে।

মরুময় আঙিনা, নীল পুল ও খেজুর বাগান এনে দিয়েছে আরব্য স্থাপত্যের ধাঁচ। হাইওয়ে থেকে অনেক উচ্চতায় অবস্থিত মসজিদটি দুবাই স্কাইলাইনে নয়নকাড়া দৃশ্যের অবতারণা করে। দূরে পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশির কিনারায় আকাশের বুক চিরে সমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন হোটেল আল-আরব। চারপাশেই পাম জুমেইরাহর সারি সারি দালান। মসজিদের পুলের নীল পানিতে আলোছায়ার খেলা এবং রাতের আলোকসজ্জা মুগ্ধতা ছড়ায় ক্ষণে ক্ষণে। বিস্তৃত মহাসড়কের ওপর আকাশ আলো করে দাঁড়িয়ে থাকা আল্লাহর এই পবিত্র ঘর যেকোনো পর্যটকেরই দৃষ্টি কাড়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত