স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বিএনপি। সোমবার বাবুর ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বাবু মারা যাওয়ার পর জানা যায় ঢাকায় থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। পরে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাবুর পরিবারের দায়িত্ব নেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ নভেম্বর একটি ফ্ল্যাটও বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাবু একজন জাতীয়তাবাদী আদর্শের দক্ষ সংগঠক ছিলেন। দেশের চরম ক্রান্তিলগ্নে তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলকে সুসংগঠিত করে দেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের প্রতি তার অবদান বিএনপি আজীবন স্মরণে রাখবে।
দুপুরে মির্জা ফখরুল প্রয়াত বাবুর ইস্কাটনের বাসায় যান। এ সময় তিনি বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন ও তার দুই সন্তান নুজহাত ফাতেমা বারী, আহইয়ান বারী রয়ীদের খোঁজখবর নেন এবং সন্তানের মাথায় আদর ও স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন ।এ সময় সিঙ্গাপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুল সিঙ্গাপুর বিএনপির পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার একটি চেক পুত্র সন্তানের হাতে তুলে দেন।
মির্জা ফখরুল ছাড়াও এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি শরিফুল আলম, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া (জুয়েল) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছাদরেজ জামান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা একিউএম বদরুদ্দোজা শওকত, ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যুগ্ম-আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন নাছির প্রমুখ।
শফিউল বারী বাবু ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উপদ্রুত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন শফিউল বারী বাবু। চলমান বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনাভাইরাসের শুরু থেকে নিরন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে। এই মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মধ্যেই গত ২৮ জুলাই হার্ট অ্যাটাক করে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
