ভাস্কর্য ইস্যুতে কোনো গোষ্ঠীকে পানি ঘোলা করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘থানায় বসে কোনো হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা হতে পারে না, হবে না। এ ধরনের অপরাধ থেকে দূরে থাকতে হবে।’
গতকাল মঙ্গলবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটরিয়ামে পুলিশে সর্বাধুনিক অপারেশনাল গিয়ার ‘ট্যাকটিক্যাল বেল্ট’ সংযোজন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইজিপি।
তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের দুর্নীতি মানুষ প্রত্যাশা করে না। এখানে থেকে দুর্নীতি করতে চাইলে তারা চাকরি ছেড়ে দেন। মনে খারাপ উদ্দেশ্য থাকলে ভবিষ্যতেও তাদের পুলিশে আসার দরকার নেই। ইতিমধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে আসা দুর্নীতি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। এ যুদ্ধে আমরা জয়ী হব। থানা হচ্ছে মানুষের শান্তি ও জীবন রক্ষা করার জায়গা। এজন্যই কাজ করবে থানা। আমরা থানার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ নিয়েও কাজ করছি।’
আইজিপি জানান, প্রথম ধাপে ডিএমপির সাত হাজার ও সিএমপির তিন হাজার সদস্য আধুনিক ‘ট্যাকটিক্যাল বেল্ট’ পাবেন। ছয় চেম্বারের এ বেল্টে পিস্তল, হ্যান্ডকাফ, অতিরিক্ত ম্যাগাজিন, এক্সপেন্ডেবেল ব্যাটন, পানির পট, টর্চলাইট ও ওয়্যারলেস রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের হাত সম্পূর্ণ খালি থাকবে। যেকোনো সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতি কম হবে। কাজে গতি আসবে, মনোবলও বাড়বে। তিনি আরও জানান, ঢাকার রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ এক হাতে ওয়্যারলেস; আরেক হাত অকুপাইড ধরে থাকুক, তা আমরা চাই না। নতুন গিয়ার সংযোজনের ফলে ওয়্যারলেস বেল্টে থাকবে, কাঁধে সংযোজিত মাইক্রোফোনের মাধ্যমে ওয়্যারলেস ব্যবহার করা যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘বেল্টের ক্ষুদ্রাস্ত্র তাদের কাছে মজুদ ছিল, নতুন করে বিশেষ কিছু কিনতে হয়নি। বড় অস্ত্রগুলো সংরক্ষণে থাকবে, প্রয়োজনে পুলিশ ব্যবহার করতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের শরীরে ভিডিও ক্যামেরা লাগানোর একটা উদ্যোগ আমি ডিএমপি কমিশনার থাকাকালীন নিয়েছিলাম। এটি খুব ব্যয়বহুল। তারপরও পর্যায়ক্রমে ক্যামেরা লাগানোর কাজ শেষ করা হবে।’
ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) ড. মঈনুর রহমান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আর সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীরসহ অন্যরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
