আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে সব মুক্তিযোদ্ধার আইডি কার্ড ও সার্টিফিকেট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর শহরের বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। গাজীপুর সিটি করপোরেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, মার্চ মাসের প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই আইডি কার্ডে আট ধরনের বারকোড ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। যাতে এ কার্ড কেউ জালিয়াতি করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী বছর বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এমন কিছু উপহার থাকবে যাতে তারা সম্মানিত বোধ করেন। সরকার ইতিমধ্যে জীবিত সব মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা শতভাগ নিশ্চিত করেছে। বিনা চিকিৎসায় বা অর্ধচিকিৎসায় কোনো মুক্তিযোদ্ধা মারা যাবেন না।’
গাজীপুর সিটি মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সামসুন্নাহার, সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মোজাম্মেল হক, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার জাকির হাসান, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান প্রমুখ।
মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকার রাস্তাঘাট বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ এবং তাদের বাসাবাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করা হবে।
১৯ মার্চে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের স্বীকৃতি প্রয়োজন : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ হয়েছিল একাত্তরের ১৯ মার্চ গাজীপুরে। ইতিহাসের স্বার্থে এই প্রথম প্রতিরোধের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষে ‘১৯ মার্চ প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটি’ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
গতকাল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্বের সব মুসলিমপ্রধান দেশে ভাস্কর্য আছে উল্লেখ করে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই ভাস্কর্য আছে। গাজীপুরেও প্রথম প্রতিরোধের ভাস্কর্য ১৯৭২ সাল থেকে আছে। সেসব ভাস্কর্য নিয়ে কখনো কেউ কিছু বলেনি। কিন্তু জাতির পিতার ভাস্কর্য নিয়ে তারা কথা বলার ধৃষ্টতা দেখায়।’
জাতীয় কমিটির সমন্বয়কারী সাংবাদিক আতাউর রহমানের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য শামসুন নাহার ভূঁইয়া, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মোজাম্মেল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক এমএ বারী, গাজীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রীনা পারভীন প্রমুখ।
