মোংলা বন্দরে বাংলাদেশ রিকন্ডিশনড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) আমদানি করা গাড়িগুলোর নিলাম কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে এক বছরের জন্য স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠন নেতারা। মোংলা বন্দরে পরিচালিত ‘বারভিডা লেভি’ আদায় কার্যক্রমে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়েও তারা জোর দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া তারা করোনা বিপর্যয় থেকে পুনরুদ্ধারে সরকারের আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজে ‘বিশেষায়িত খাত’ হিসেবে বারভিডার জন্য ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার বারভিডা আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশন নেতারা এসব বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বারভিডা প্রেসিডেন্ট আবদুল হক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা জানায়, করোনা মহামারী পরিস্থিতির কারণে এপ্রিল ও মে মাসে বারভিডা সদস্যদের ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবস্থিত প্রায় ৪০০ শোরুম বন্ধ থাকায় গাড়ি বিক্রি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল এবং খাতটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ১০০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক স্থায়ী আদেশ বলে মোংলা কাস্টম হাউজ সম্প্রতি বন্দরে থাকা গাড়িগুলোর নিলাম কার্যক্রম শুরু করেছে। এর ফলে এ খাতের প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, রাজস্ব আহরণ বিঘিœত হচ্ছে, বাজারের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং ব্যাংকের বিনিয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
করোনা দুর্যোগের বিপুল আর্থিক ক্ষতি এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে মানবিক কারণে বারভিডা অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সমন্বয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে বন্দরে থাকা গাড়িগুলোর নিলাম কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা প্রেসিডেন্ট আবদুল হক মোংলা বন্দরে পরিচালিত ‘বারভিডা লেভি’ আদায় কার্যক্রমে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও কল্যাণধর্মী কার্যক্রম পরিচালনা এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে যথাযথ সহযোগিতা দেওয়ার লক্ষ্যে বারভিডা সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুযায়ী মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় গত ৫ নভেম্বর থেকে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা প্রতি ইউনিট গাড়ির বিপরীতে ১০০০ টাকা করে লেভি আদায় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বারভিডার বার্ষিক সাধারণ সভা ২০১৯-এ সাধারণ সদস্যরাও এই লেভি আদায়ের বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।
তবে ‘বারভিডা লেভি’ আদায় কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকেই স্বার্থান্বেষী মহলবিশেষের প্ররোচনায় সৃষ্ট বিভিন্ন বিভ্রান্তির প্রেক্ষিতে কার্যক্রমটিতে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। এই মহৎ এবং কল্যাণমূলক পদক্ষেপটি যাতে অব্যাহত থাকে সে বিষয়ে বারভিডা প্রেসিডেন্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমর্থন এবং সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য, বারভিডা তার কল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর আর্তমানবতামূলক কার্যক্রমে একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেছে, যা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটকে অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
