বিজিবি দিবসে মহাপরিচালক

সীমান্তের মানুষকে সচ্ছল করলে কমবে হত্যা

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:১০ এএম

অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও শিক্ষার মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত করা গেলে সীমান্ত হত্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম। গতকাল রবিবার বিজিবি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বাহিনীটির সদর দপ্তর পিলখানায় রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

বিজিবি দিবস-২০২০ উদ্যাপন উপলক্ষে গতকাল দিনভর কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এদিন সকাল ৯টায় পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবির রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন করেন। পরে তিনি স্মৃতিস্তম্ভ ‘সীমান্ত গৌরব’-এ মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবার বিজিবি দিবস খুব জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপন করা হয়। এ বছর করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সীমিত আকারে দিবসটি পালন করছি আমরা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিজিবির পক্ষ থেকে ১০০ জেলেকে নৌকা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাদের মাছ ধরার জন্য জাল দেওয়া হবে। দেশের জেলেরা দাদনের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। জেলেরা যাতে দাদন থেকে মুক্ত হয়ে নিজেরা নিজেদের জীবিকা ধরে রাখতে পারে সেজন্য আমরা এ কর্মসূচি পালন করেছি।’

সীমান্ত হত্যা বন্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিবি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যার বিষয়ে আমরা উভয় দেশের সঙ্গে আলোচনা করছি। সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় আনতে আমরা কূটনৈতিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণকে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ না করেন।’

বিজিবির সাফল্য ও ব্যর্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সারা বিশ্ব টেকনোলজির দিক দিয়ে এগিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশও এগিয়ে যাচ্ছে। টেকনোলজির সঙ্গে বিজিবিকে এগিয়ে নিতে হলে বাহিনীতে আধুনিক টেকনোলজি স্থাপন করা প্রয়োজন। এছাড়াও বিজিবির সব সদস্যের প্রয়োজন টেকনোলজিক্যাল প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা। আমাদের দেশের সীমানায় কিছু স্থান এখনো অরক্ষিত রয়েছে। অরক্ষিত জায়গাতে বিওপি স্থাপন করা গেলেও সীমান্তে হত্যাসহ নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।’

বিজিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিজিবি দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে গতকাল সকাল ১০টায় মহাপরিচালকের বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিজিবি দিবসে বিশেষ দরবার হয়। এতে বাংলাদেশের সব প্রান্ত থেকে বিজিবি সদস্যরা যুক্ত ছিলেন। বিজিবি মহাপরিচালক বৈশ্বিক করোনা মহামারীতে বিজিবি সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী দিনগুলোতে সরকার কর্র্তৃক অর্পিত যেকোনো দায়িত্ব আরও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সততা, নিষ্ঠা ও আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে পালন করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান। তিনি বিজিবির মূলনীতিতে দীক্ষিত হয়ে সুসংগঠিত, শক্তিশালী এবং যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণে সবাই একযোগে কাজ করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দরবার শেষে অনারারি সুবেদার মেজর থেকে অনারারি সহকারী পরিচালক এবং অনারারি সহকারী পরিচালক থেকে অনারারি উপপরিচালক পদে পদোন্নতি পাওয়াদের র‌্যাংক ব্যাজ পরিধান, শ্রেষ্ঠ রিক্রুট প্রশিক্ষক বা প্রশিক্ষণে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জনকারীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলগত বা ব্যক্তিগত পুরস্কার, অপারেশনাল কার্যক্রম, চোরাচালান নিরোধ এবং মাদকদ্রব্য আটকের ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য পুরস্কার,  শ্রেষ্ঠ ব্যাটালিয়ন ও রানারআপ ব্যাটালিয়নকে পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ কোম্পানি ও বিওপি কমান্ডারদের পুরস্কার এবং মহাপরিচালকের অপারেশন ও প্রশাসনিক ইনসিগনিয়াসহ প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়।

এছাড়াও বিজিবি দিবস উদযাপন উপলক্ষে পিলখানাসহ বিজিবির সব রিজিয়ন, সেক্টর, ব্যাটালিয়ন ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেক কাটা ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। এর বাইরে মাগরিবের নামাজের পর বিজিবির সব মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত