তথ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

দেশ রূপান্তর সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাক

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:১৯ এএম

দায়িত্বশীলদের দৈনিক দেশ রূপান্তরের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে দেওয়া এক শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি পত্রিকাটির দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করে বলেন, করোনাকালেও দেশ রূপান্তরের বস্তনিষ্ঠ সাংবাদিকতা তার পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। আগামীতেও তারা দেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা রক্ষায় সত্যিকারের সাংবাদিকতা করবে।

 ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। এই সরকারের সময়েই সবচেয়ে বেশি গণমাধ্যম প্রকাশিত হয়েছে। দেশ রূপান্তরও এই সরকারের সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। আমি খেয়াল করেছি পত্রিকাটি শুরু থেকেই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করে আসছে। তার লেখনী শক্তির মাধ্যমে তা ফুটিয়ে তুলেছে। বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সাংবাদিকতার মাধ্যমে মাত্র দুই বছরের মধ্যে সংবাদপত্রটি পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, সাংবিধানিক শাসনের স্বার্থে পত্রিকাটির এই ভূমিকা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে গণমাধ্যম। গণতন্ত্রের সুরক্ষা, গুজব নির্মূল, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিনাশে গণমাধ্যম বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দেশ রূপান্তরও দক্ষতার সঙ্গে এসব ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। তারা আমাদের ভুলগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করেছে। ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করেছে। দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িকতা নির্মূলে পত্রিকাটি সব সময় সরব ছিল।’

তিনি বলেন, ‘দেশ রূপান্তর এমন এক সময়ে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালন করছে যখন সারা বিশ্ব মহামারী করোনার কবলে। অথচ এই বছরই আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালন করছি। এছাড়া আগামী বছর আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব। কিন্তু করোনা আমাদের সব পরিকল্পনাকে নষ্ট করে দিয়েছে। সবকিছু আমাদের সীমিত আকারে করতে হচ্ছে। শুধু তাই না, করোনা গোটা বিশ্বের অর্থনীতি পাল্টে দিয়েছে। আর এতে অন্যতম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সংবাদপত্র। অনেক গণমাধ্যমকর্মী কাজ করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে জীবন দিয়েছেন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে যখন সবাই স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ঘরে অবস্থান করছিলেন তখন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা মাঠে থেকে সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়া করোনার ধাক্কায় সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন কমে যাওয়ায় তাদের কিছুটা আর্থিক সংকটের মধ্যেও যেতে হয়েছে। একথা বলতেই হয়, সরকার সংবাদপত্র থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও নীতিগত সহায়তা নিয়েছে। দেশ রূপান্তরও করোনাকালে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। তবে আশার কথা হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে করোনাকে জয় করে দেশ আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।

ইসি নিয়ে ৪২ জনের বিবৃতি বিএনপির তৈরি: ‘নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়ে ৪২ জনের বিবৃতির খসড়া বিএনপির তৈরি’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রগতিশীল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-প্রগতিশীল ন্যাপ (ভাসানী) আয়োজিত মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৪০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় সমসাময়িক প্রসঙ্গে এ কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গতকাল (শনিবার) দেখলাম যে দেশের ৪২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে একটা বিবৃতি দিয়েছেন। এই বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, তারা সবাই বিএনপি ঘরানার হিসেবে পরিচিত। তাদের কেউ কেউ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদেও আছেন এবং তারা প্রতিনিয়ত নানাভাবে সরকারের বিরুদ্ধে বলে আসছেন। ব্যতিক্রমটা হচ্ছে ৪২ জন একসঙ্গে হয়েছেন। অবশ্য বিবৃতিটা বিএনপি অফিস থেকে ড্রাফট করে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তারা বিএনপিরই প্রতিধ্বনি করেছেন।

নির্বাচন কমিশন নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই সেটি নিয়ে আলোচনা হতেই পারে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু যে ভাষায় তারা বিবৃতি দিয়েছেন এবং মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন, সেটি বুদ্ধিজীবীদের বুদ্ধিদীপ্ত মনে হয়নি বরং বিএনপির ড্রাফট করা বিবৃতিই দিয়েছেন তারা।’

আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে আওয়ামী মুসলিম লীগের (পরে আওয়ামী লীগ) প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, মওলানা ভাসানী কখনো ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করেননি, আজীবন দেশ ও মানুষের সেবায় রাজনীতির মহান ব্রত পালন করেছেন।

পরশ ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা, যুবলীগ কেন্দ্রীয় সদস্য মানিক লাল ঘোষ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত