বিজিএমইএ নির্বাচন নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৩১ এএম

করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ ৩ থেকে ৬ মাস বৃদ্ধি করতে চাইছে পোশাক কারখানা মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। গত রবিবার রুবানা হক পর্ষদের এক ভার্চুয়াল সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। এখন সংগঠনটির সাবেক সভাপতিরা সম্মতি দিলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে। নির্বাচন পেছাতে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বারস্থও হতে পারেন। তবে করোনার মধ্যে নির্বাচনে কোনো সমস্যা দেখছেন না ৫ সাবেক সভাপতি। সময়মতো নির্বাচন চাইছে সম্মিলিত পরিষদও। এ ছাড়া সাধারণ সদস্যদের বড় একটি অংশও চাইছে সময়মতো নির্বাচন। এই সপ্তাহেই বিষয়টি নিয়ে সাবেক সভাপতিরা একটি বৈঠক করতে পারেন। সেখানেই বিষয়টির সুরাহা হবে।

মেয়াদ বাড়াতে চাওয়ার কারণ হিসেবে বিজিএমইএর বর্তমান পর্ষদের সহসভাপতি (অর্থ) এম এ রহিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার ভয়ে আমরা নির্বাচন পেছাতে চাচ্ছি না। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী করোনার সেকেন্ড ওয়েভ চলছে। আগামী এপ্রিলে রোজা। এরপর দুটি ঈদ। আর ঈদে তো বোনাসের বিষয় আছে। এখন যদি মার্চে নির্বাচন হয় সেক্ষেত্রে জানুয়ারি থেকেই আমাদের নির্বাচনের পেছনে ছুটতে হবে। তাতে বেতন-ভাতা নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তখন শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। তাই আমরা সাবেক সভাপতিদের কাছে ঈদের পরে নির্বাচন করার জন্য বলেছি।’

সাধারণ সদস্য হিসেবে মতামত জানতে চাইলে নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী বলেন, ‘সময়মতো নির্বাচন হওয়া যেকোনো সংগঠনের জন্য ভালো। কয়েক দিন আগে আমার এলাকার (ঢাকা-১৮) সংসদ উপনির্বাচনও হয়েছে। এখন যদি নেতারা মনে করেন পেছালে ভালো হবে তাহলে সেটা করতে পারেন। দেশ ও ব্যবসা সবার আগে।’

১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন সভাপতি পেয়েছে বিজিএমইএ। এদের মধ্যে ৯ জন সম্মিলিত পরিষদের এবং ৪ জন ফোরামের। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ছাড়া বাকি সবাই এখনো জীবিত। বিজিএমইএ নির্বাচন নিয়ে ৫ সাবেক সভাপতি দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। এদের মধ্যে ৩ জন নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তবে এদের সবাই জবাবদিহির স্বার্থে সময়মতো নির্বাচনের পক্ষে। তাই বড় কোনো ধরনের ব্যবসায়িক ঝুঁকি না থাকলে সময়মতো নির্বাচনে কোনো বাধা দেখছেন না তারা।

বিজিএমইএ ও সম্মিলিত পরিষদের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনায় তো কোনো কিছু থেমে নেই। দেশে জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে। সবকিছু চলছে। তারপরও আমাদের কাছে ব্যবসায়িক স্বার্থ সবার আগে। আমরা বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই বসব। যদি দেখি সময়মতো নির্বাচন করলে ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষুণœ হবে তবে অবশ্যই আমরা সেটি দেখব।’

বিজিএমইএর আরেক সভাপতি ও সাংসদ আবদুস সালাম মুর্শেদী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার কাছে আমার পার্টি সবার আগে। পার্টি যদি মনে করে নির্বাচন পেছানো প্রয়োজন তাহলে আমিও তাতে সায় দেব। তবে দেখেন আমি কিন্তু কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাচনে অংশ নিলাম। মহিউদ্দিন ভাই করোনার মধ্যেই সংসদ সদস্য হয়েছেন। আরও অনেক নির্বাচনের উদাহরণ আছে। তারপরও সাবেক সভাপতিরা বসে একটি সিদ্ধান্ত নেব।’

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফোরামের আরেক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন পেছানোর আবেদনের দুটি কারণ আছে। প্রথমত করোনাকালীন সংকট মোকাবিলায় বর্তমান পর্ষদ অনেকটা দক্ষ। নতুন পর্ষদের এসব বুঝে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে। এ ছাড়া নির্বাচনে ফোরামের নেতৃত্ব রুবানা হক নাকি রুপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল ইসলাম দেবেন তা নিয়ে ফোরামের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে এখনো দ্বন্দ্ব চলছে। এখন যদি ৬ মাস বাড়তি সময় পাওয়া যায় তাহলে বিভক্তি দূর করার সময় মিলবে। এ ছাড়া সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও সম্মিলিত পরিষদের সঙ্গে সমঝোতার নির্বাচন করারও সুযোগ থাকল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত