মা দুধ দেয় না, ব্যাঘ্র শাবকটি বেড়ে উঠছে মানুষের মমতায়

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:১২ পিএম

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ১৪ নভেম্বর রাতে ‘জয়া’ নামের এক বাঘিনী তিনটি শাবকের জন্ম দেয়। শাবকগুলোকে মা দুধ খেতে না দেওয়ায় পরদিন একটি এবং ১৮ নভেম্বর আরেকটি শাবক মারা যায়।

মাতৃস্নেহ বঞ্চিত বাকি বাঘের ছানাটি বেড়ে উঠছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ও চিকিৎসক শাহাদাত হোসেন শুভর তত্ত্বাবধানে।  

image

শাহাদাত হোসেন শুভর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে, এক মাস আট দিন বয়সী এ বাঘছানাকে আদর যত্নে বড় করে তুলছেন চিড়িয়াখানার চিকিৎসকসহ অপর কর্মীরা। চিড়িখানার কোয়ারেন্টিন সেন্টারের একটি জায়গায় রেখে ছোট শিশুদের মতোই ফিডারে দুধ খাওয়ানো হয় বাঘ ছানাটিকে। ছোট ছোট বল আর কাপড়ের তৈরি একটি খেলনা বাঘের সঙ্গে সময় কাটছে তার।

শুভ বলেন, শুরুতে আলাদা রেখে যখন তাকে দুধ খাওয়ানো হয়েছিল তখন তার হজমের সমস্যা হয়েছে। রক্ত পায়খানা হয়েছিল এবং তার যেভাবে ওজন বাড়ার কথা ছিল তা না হয়ে উল্টো ওজন কমতে শুরু হয়েছিল। এ সময় ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বাঘের ছানাটিকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শুরুতে বাঘের শাবকটিকে বাজারে পাওয়া বিড়ালের দুধ খাওয়ানো হয়েছিল। এখন ছাগলের দুধের সঙ্গে অন্য কিছু উপকরণ মিশিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে। বাঘের ছানাটি আগের চেয়েও ভালো অবস্থায় আছে।
তার ওজন হয়েছে দুই কেজি ৩০০ গ্রাম।

শাহাদাৎ হোসেন শুভ বলেন, সন্তানকে দুধ না দেওয়ার ঘটনা বাঘিনীদের জন্য অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে যেসব বাঘ বন্দি অবস্থায় থাকে, তাদের ক্ষেত্রে এমন হতে পারে। এছাড়া এই বাঘিনীর এটিই প্রথম সন্তান জন্মদান, দুধ না দেওয়ার সেটাও একটা কারণ হতে পারে বলে ধারণা করছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

image

২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ৩৩ লাখ টাকায় কেনা ১১ মাস বয়সী রাজ এবং ৯ মাস বয়সী পরীকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আনা হয়।

২০১৮ সালের ১৯ জুলাই বেঙ্গল টাইগার দম্পতি রাজ-পরীর তিনটি ছানার জন্ম হয়। যার মধ্যে দু্টি ছিল ‘হোয়াইট টাইগার’, অন্যটি কমলা-কালো ডোরাকাটা।

পরদিন একটি সাদা বাঘ শাবক মারা যায়। অন্য সাদা বাঘিনীটি ‘শুভ্রা’। কমলা-কালো বাঘিনীটির নাম দেওয়া হয় ‘জয়া’। এই জয়া গত ১৪ নভেম্বর তিনটি শাবকের জন্ম দেয়। যার মধ্যে দুটি মারা যায়।

এর আগে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর বাঘিনী পরী দুটি শাবকের জন্ম দেয়। এরমধ্যে পরদিনই একটির মৃত্যু হয়।বেঁচে থাকা শাবকটি শুরুর দিকে ইনকিউবেটরে এবং পরে তিন মাস পর্দায় ঢাকা খাচায় নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়।

সুস্থ হয়ে ওঠার পর খাঁচায় ছেড়ে দেওয়া ওই বাঘ ছানার নাম রাখা হয় করোনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত