স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর ঘটনায় সংগঠনটির ৩৬ নেতার বিরুদ্ধে সরকার মামলা করেনি। যারা সংক্ষুব্ধ হয়েছেন তারাই মামলা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়িসহ বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, নারায়ণগঞ্জ ও চাঁদপুর জেলায় ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ২০০৮ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা করেছিলেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মধ্যে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম একটি। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম এবং সারা বিশ্বের মধ্যে ১১৯তম দেশ বাংলাদেশ, যারা ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু করেছে। ই-পাসপোর্ট যেন বিশ্বমানের হয় সে লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করেছে। ই-পাসপোর্ট সারা বিশ্বে বিশ্বাসযোগ্য, নিরাপদ। ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে ১০ বছরের জন্য। ই-পাসপোর্ট পেতে যাতে হয়রানির শিকার হতে না হয়, তা সবার নজর রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ই-পাসপোর্টের জন্য ঘরে বসে আবেদন করা যাবে। পরবর্তীতে ফিঙ্গার প্রিন্ট, আই প্রিন্ট অফিসে গিয়ে দিয়ে আসতে হবে। ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি এমআরপি পাসপোর্ট এখনো ব্যবহার হবে।
পার্বত্য শান্তি চুক্তির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তির কিছু কিছু বিষয় অসম্পূর্ণ রয়েছে। এ ব্যাপারে কাজ চলছে। আমরা আর এই এলাকায় রক্তপাত চাই না। দেশ অনেক এগিয়েছে, নতুন নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হচ্ছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এই বাংলাদেশে কোনো অংশ অন্ধকারে থাকবে প্রধানমন্ত্রী তা কখনো চিন্তা করেন না।
সারা দেশে ভাস্কর্য ভাঙচুর করা প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘ভাস্কর্য পাহারার জন্য হাইকোর্ট থেকে নির্দেশনা এসেছে। শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নয়; বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর হয়েছে। আমরা মনে করি এগুলো বাংলাদেশের কৃষ্টি। বাংলাদেশের সম্পদ। এগুলো সুরক্ষার দায়িত্ব সবার। জনগণেরও এখানে দায়িত্ব রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে উপজাতীয় শরণার্থী পুনর্বাসনবিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, বাসন্তী চাকমা এমপি, মো. শহীদুজ্জামান, সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; মেজর জেনারেল আয়ুব চৌধুরী, মহাপরিচালক, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর; প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
