শনাক্তের হার ২৫৮ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৫৭ এএম

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে নতুন রোগী শনাক্তে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই নিম্নগতি দেখা যাচ্ছে। শনাক্তের শতকরা হার কমে গিয়ে ৯ শতাংশের নিচে নেমেছে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি পরীক্ষায় ১ হাজার ১৬৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ পরীক্ষার মধ্যে করোনা পাওয়া গেছে মাত্র ৮-৯ জনের। শনাক্তের এই হার গত ২৫৮ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে সর্বশেষ গত ১১ এপ্রিল এরচেয়ে কম হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এ নিয়ে টানা গত ১১ দিন রোগী শনাক্তের হার ১০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

গতকাল অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ২০ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে একজন বেশি। এদিন মৃতদের মধ্যে ১০ জনই ছিল ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি ও হার্টের রোগী। এ ছাড়া ১৫ জনের বয়স ছিল পঞ্চাশোর্ধ্ব ও ১২ জন ছিল ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।

গতকাল ছিল দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর ২৯৩তম দিন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে সর্বমোট ১৬৩টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি জিন-এক্সপার্ট, ২৯টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন এবং বাকিগুলো আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ১৩ হাজার ৫১০টি নমুনা সংগৃহীত হয়। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১৩ হাজার ৬৯৫টির। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ১৬৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ছিল ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ২০ রোগীর মৃত্যু হয়েছে এবং বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ২ হাজার ১১৩ রোগী সুস্থ হয়েছে।

এতে বলা হয়, দেশে গতকাল পর্যন্ত অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ৩১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮টি নমুনা পরীক্ষায় ৫ লাখ ৭ হাজার ২৬৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছে ৭ হাজার ৩৯৮ এবং সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৩ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত যত পরীক্ষা হয়েছে তার বিপরীতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৬ ও সুস্থতার হার ৮৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৪ ও নারী ৬ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১২, চট্টগ্রামে ৩, খুলনা ও রংপুরে ২ জন করে এবং ময়মনসিংহে ১ জন মারা গেছে। মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১০, ৫১-৬০ বছরের ৫, ৪১-৫০ বছরের ৪ এবং ১১-২০ বছরের ছিল ১ জন। ১৯ জন মারা গেছে হাসপাতালে এবং একজন বাড়িতে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৬৩৬ ও নারী ১ হাজার ৭৬২ জন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭৬ দশমিক ১৮ ও নারী ২৩ দশমিক ৮২ ভাগ। সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৪৪ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৭৯, খুলনায় ৫২২, রাজশাহীতে ৪৩১, রংপুরে ৩৩৩, সিলেটে ২৯০, বরিশালে ২৩৬ এবং সর্বনিম্ন ১৬৩ জন মারা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪০ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৬০৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১১ হাজার ৮৭০ ও কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩৯ হাজার ৩১০ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে ১০ হাজার ৫১০টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৫২৮টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ৫৮২টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ৩০০টিতে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত