দেশে ১৮ বছরের নিচে ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের টিকা লাগবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, বর্তমানে দেশে ১৮ বছরের নিচে প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ ও ৩০ লাখের মতো অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় কোটি মানুষ বিদেশে রয়েছে। এই তিন শ্রেণির মানুষের টিকা না লাগায় অক্সফোর্ড ও কোভ্যাক্স ভ্যাকসিন দিয়ে দেশের প্রায় সব মানুষেরই ভ্যাকসিন প্রাপ্তি ঘটবে। গতকাল রবিবার সকালে মহাখালীর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে দুটি ভ্যাকসিন ল্যাব পরিদর্শন শেষে এসব কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জানুয়ারির শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই দেশে ভ্যাকসিন চলে আসবে। আগামী ছয় মাসে পর্যায়ক্রমে দেশে তিন কোটি ভ্যাকসিন চলে আসবে। এই ভ্যাকসিন মানুষের কাছে সুষ্ঠুভাবে বিতরণের জন্য সরকারের যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে। ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য আমাদের প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে, ভ্যাকসিন রাখার স্টোর প্রস্তুত করা হয়েছে, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখতে কোল্ডবক্স ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হয়েছে। কীভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে তার জন্য একটি গাইডলাইনও প্রস্তুত করা হয়েছে। যারা ভ্যাকসিন প্রদানে সরকারের সমালোচনা করছে, তারা সঠিক তথ্য না জেনেই কথা বলছে।’
ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে ভ্যাকসিন নেওয়ার পাশাপাশি বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা কর্র্তৃক কো-ভ্যাক্স ভ্যাকসিন পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আগামী মে-জুন মাসের দিকে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা কর্র্তৃক দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের জন্য কো-ভ্যাক্স ভ্যাকসিন পাঠানো হবে। চলমান অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের পাশাপাশি কো-ভ্যাক্স ভ্যাকসিন চলে এলে দেশের প্রায় অধিকাংশ মানুষেরই ভ্যাকসিন প্রাপ্তি ঘটবে। এই সবকিছুর পরও মানুষকে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করা অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহাবুবুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
