১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ। নির্মম গণহত্যা, নারী নির্যাতন, আর ধ্বংসলীলার নয়টি মাস শেষে বিজয়ের দিনে বাংলাদেশের বহু মানুষের মনে আনন্দের সঙ্গে ছিল গভীর বেদনা। কারণ, স্বাধীনতা এসেছিল অনেকের স্বজন হারানোর বিনিময়ে। একাত্তরের দিনগুলি বইতে জাহানারা ইমাম বিজয়ের পর ঢাকার অবস্থা বর্ণনা করে লিখেছিলেন, ‘সারা ঢাকার লোক একই সঙ্গে হাসছে আর কাঁদছে। স্বাধীনতার জন্য হাসি। কিন্তু হাসিটা ধরে রাখা যাচ্ছে না। এত বেশি রক্তে দাম দিতে হয়েছে যে কান্নার স্রোতে হাসি ডুবে যাচ্ছে। ভেসে যাচ্ছে।’ কিন্তু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে বিজয় অর্জনের সেই দিন থেকেই আমাদের দেশের এক দল সুযোগসন্ধানী মানুষ শঠতার আশ্রয় নিয়ে অন্যায়ভাবে সুবিধা আদায়ে তৎপর হয়ে উঠেছিল।
আত্মসমর্পণের পর পাকিস্তানি সেনাদের ক্যান্টনমেন্টে ভারতীয় বাহিনীর নজরদারিতে রাখা হয়। পাকিস্তানিদের দোসর বিহারিরা, এবং আল-বদর আর রাজাকার সদস্যরা তাদের অস্ত্র রাস্তায় ফেলে গা-ঢাকা দিয়েছিল। পাকিস্তানি সৈন্যরাও অনেক অস্ত্র পথে ফেলে দেয়। সেই সব অস্ত্র কুড়িয়ে নিয়ে একদল বাঙালি ১৬ ডিসেম্বর থেকেই মুক্তিযোদ্ধার বেশ ধরে ঢাকার পথে পথে বিজয় উৎসবে যুক্ত হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই চতুর বাঙালিরা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেনি। বরং, তখন তারা পাকিস্তানি সেনাদের তোয়াজ আর সহায়তা করে স্বচ্ছন্দে বসবাস করেছে ঢাকা শহরে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পর থেকেই ঢাকায় অস্ত্র হাতে মুক্তিযোদ্ধার মুখোশধারী এই ধূর্ত মানুষদের দেখা গিয়েছিল বলে নগরবাসী এদের নাম দিয়েছিল ‘সিক্সটিন ডিভিশন।’
বিভিন্ন বইয়ে আল-বদর, আল-শামস, রাজাকারদের যুদ্ধাপরাধ নিয়ে লেখা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক-চলচ্চিত্রে আল-বদর, রাজাকারদের দেখানো হয়েছে। অথচ আমাদের দেশের বই, চলচ্চিত্র, নাটকে বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গেই মুক্তিযোদ্ধা সাজা সুযোগসন্ধানীদের সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে খুবই কম। কিন্তু বিজয়ের পরমুহূর্তেই মুক্তিযোদ্ধা সেজে লুটপাট, ছিনতাই, আর জবরদখলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এইসব নীচ চরিত্রের মানুষদের সম্পর্কে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। অনেকে আবার মুক্তিযুদ্ধকালীন তাদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কার্যকলাপ গোপন রাখার জন্য পাকিস্তানিদের পরাজয়ের পরই মুক্তিযোদ্ধা সাজে। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ দুপুর বারোটার কিছু আগে যখন বিজয়ের সংবাদ ঢাকায় মানুষের কাছে পৌঁছাল, সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকার পথে অজস্র মানুষ বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠে। তখন দেখা একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন সেই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা নাজিম মাহমুদ। তিনি লিখেছেন: ‘আনন্দে বিস্ময়ে দোতলার বারান্দায় আমি নির্বাক। চারদিকে এত আলো। এত প্রাণের প্লাবন। এত আনন্দগান! অস্তিত্বের অতল গভীর থেকে গুমরে গুমরে উথলে ওঠে আনন্দাশ্রুর এক একটি দমকা ঢেউ। এমন সময় এক অদ্ভুত কা-। আমাদের দালানের এক ছোকরা যে কিনা দুদিন আগেও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে পাড়া কাঁপিয়ে তোলে, সে বেরিয়ে পড়ল রাস্তায়। কাঁধে একটি বন্দুক তুলেই হাঁক দিল এই ছোকরা ‘জয় বাংলা।’ তারপর সে মিশে গেল মুক্তিযুদ্ধের মিছিলে। ১৬ ডিসেম্বরে সবার অলক্ষ্যে এভাবেই গড়ে উঠল মুক্তিযুদ্ধের ষোড়শ ডিভিশন।’
ভারতীয় সাংবাদিক পার্থ চট্টোপাধ্যায় ১৬ ডিসেম্বরের পর ঢাকায় এসেছিলেন। সেই সময়ে দেখা বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা করে লেখা নিজের বইতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘বাংলাদেশে একটা কথা তখনই বেশ চালু হয়ে গিয়েছিল ষোড়শ ডিভিশন। অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বরের পর যারা রাতারাতি মুক্তিবাহিনী সেজে যায়। হাতে রাইফেল নিয়ে, মাথায় হেলমেট পরে হাইজ্যাক করা গাড়িতে চড়ে শহর কাঁপাতে কাঁপাতে এরা সাধারণ মানুষের মনে ত্রাসের সৃষ্টি করে। সংগ্রামের দিনগুলোতে এদের টিকি দেখা যায়নি।’ তৎকালীন মেজর মইনুল হোসেন চৌধুরী ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রায় ৮০০ সেনাসদস্য নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেন। সেই রাতে তারা থাকেন ঢাকা স্টেডিয়ামে। পরদিন সকালে ঢাকায় দেখা পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি লিখেছেন : ‘সকালেই স্টেডিয়াম থেকে দেখতে পাই শহরে প্রচুর লোকসমাগম। তাদের অনেকেই অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এবং গাড়ি করে ও পায়ে হেঁটে শহরময় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের দেখে মনে হয়নি গত ৯ মাসে কখনো তারা বৃষ্টিতে ভিজেছে বা রোদে ঘেমেছে। তাদের বেশভূষা, চালচলন ও আচরণে যুদ্ধের কোনো ছাপ ছিল না।’ তৎকালীন লেফটেন্যান্ট নাসির উদ্দিন ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি সেনাদল নিয়ে ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রবেশ করেন। সেদিন ঢাকার দৃশ্য দেখে এই তরুণ মুক্তিযোদ্ধা অফিসারের মনে তৈরি হয়েছিল কিছু প্রশ্ন : ‘চারদিকে সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপক আনাগোনা দেখা গেল। মুক্তিযোদ্ধাদের এই বিশাল সমাগম দেখে অবাক না হয়ে পারলাম না। কোথা থেকে এলো মুক্তিযোদ্ধাদের এই ঢল? কোথায় ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের এই বিশাল বাহিনী? এত সংখ্যার মুক্তিযোদ্ধা তাহলে কেন পারল না প্রতিরোধযুদ্ধকে আরও তীব্রতর করতে গত ন’মাসে?’
কাইয়ুম খান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীতে কমিশন পেয়ে সাত নম্বর সেক্টরে একজন কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করেছিলেন। ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে তিনি নিজের সেক্টর থেকে ঢাকায় আসেন। একদিন তিনি গিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহরে গেরিলা হামলা চালানো মুক্তিযোদ্ধা দলের অন্যতম সদস্য হাবিবুল আলমের বাসায়। সেখানেই তিনি প্রথম ‘সিক্সটিন ডিভিশন’ কথাটি শোনেন। সেই বাসায় একজন তাকে জানান, ঢাকা শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই এমন মুক্তিযোদ্ধা-সাজা লোকজন দেখা যাচ্ছে এবং তারা এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। তাদের বিভিন্ন অপকর্মের জন্য বদনাম হচ্ছে মুক্তিবাহিনীর। হাবিবুল আলম আরও জানান যে, ঢাকা শহরে যে সশস্ত্র যুবকদের এখন দেখা যাচ্ছে তাদের বেশির ভাগই ‘সিক্সটিন ডিভিশন।’ কেবল অল্প কিছু যুবক হলো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। নয় মাসে যে মুক্তিযোদ্ধারা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ করেছেন, তাদের বেশির ভাগ সময় পর্যাপ্ত খাবারই জোটেনি। দামি পোশাক, জুতো আর সানগ্লাস পাওয়া তো দূরের কথা। অথচ বিজয়ের পর ঢাকা শহরে মুক্তিযোদ্ধা সেজে ঘুরে বেড়ানো যুবকদের বেশভূষার বর্ণনা পাওয়া যায় মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদের লেখায় : ‘শহরের অলিগলি, বড় রাস্তায় হুড খোলা জিপে ঘুরে বেড়াচ্ছে একদল শহুরে যুবক। তাদের পরনে প্যান্ট, পায়ে কেডস, হাতে স্টেন কিংবা রাইফেল। লম্বা চুল ও গোঁফ, সানগ্লাস চোখে দিব্যি মুক্তিযোদ্ধা সেজে ফুর্তি করছে।’
১৭ ডিসেম্বর সদ্যস্বাধীন দেশে যখন বহু মানুষ বিজয়ের আনন্দ অনুভবের পাশাপাশি স্বজন হারানোর ব্যথায় মর্মাহত সেই দিনে কিছু মানুষ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, নিউমার্কেট, এবং শহরের অন্য আরও কিছু স্থানে লুটপাট আর লুটতরাজের মতো ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হয়েছিল। জহিরুল ইসলাম দুই নম্বর সেক্টরের গেরিলা দলের সদস্য ছিলেন। তাদের দল নিয়ে তারা ঢাকায় প্রবেশ করেছিলেন ১৬ ডিসেম্বর রাতে। তিনি লিখেছেন, ১৮ ডিসেম্বর সকালে তারা খবর পান গুলশানে বিভিন্ন খালি বাড়ির পাশে দলে দলে লোক ঘুরছে। গুলশানে সেই সময় যুদ্ধের ভয়ে অনেক বাড়ি ছেড়ে লোকজন চলে গিয়েছিল। গেরিলাদের দল গুলশানে পৌঁছে দেখতে পায়, কিছু লোক একটি বাড়ির তালা ভাঙছে। তারা গেরিলাদের দেখে দৌড়ে পালায়। লুটেরাদের কয়েকটি দলকে তখন মুক্তিযোদ্ধারা আটক করেন। কয়েকদিন পর মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ড গেরিলাদের জানান, মুক্তিযোদ্ধার বেশধারী কয়েকজন জাতিসংঘের একটি গাড়ি হাইজ্যাক করেছে। এতে করে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের মনে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে অত্যন্ত বাজে ধারণা তৈরি হয়েছে।
এই খবর শুনেই গেরিলাদের দল গাড়িটি উদ্ধারের জন্য বের হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা গাড়িটি দেখতে পায়। তাদের দেখে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা। গাড়িটি যখন হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে অবস্থানরত বিদেশিদের ফিরিয়ে দেওয়া হলো তখন উইলিয়াম ওডারল্যান্ড দারুণ খুশি হয়ে বিদেশিদের বলেছিলেন, ‘এরা হলো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। আর যারা তোমাদের গাড়ি হাইজ্যাক করেছিল ওরা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কখনো হাইজ্যাক করতে পারে না।’ বিজয়ের পরদিন থেকেই জহিরুল ইসলাম এবং তার দলের মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে মাইন অপসারণ করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রতিদিন ১৮-২০ ঘণ্টা কাজ করছিলেন। আর সেই সময়, জহিরুল ইসলামের বর্ণনায় কিছু সংখ্যক যুবক মাথায় ফিতা বেঁধে খোলা জিপে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হৈ চৈ করে শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল। তিনি আরও লিখেছেন, দিন দিন এই ধরনের গাড়ির সংখ্যা বাড়ছিল। আর গাড়ির আরোহীদের সবাইকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বলে মনে হতো না।
শহর এবং গ্রামের অনেক মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ শেষে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী অস্ত্র জমা দিয়ে দেন। এদের অনেকেরই বাড়িঘর যুদ্ধের সময় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। কেউ হারিয়েছিলেন নিকটজন। অনেকেরই অর্থ এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল না। স্বাধীন দেশে তাদের জীবনযাপন হয়ে ওঠে কষ্টকর। মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানপন্থি যে মানুষরা প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরি করেছে স্বাধীন দেশেও তাদের অনেককেই পুরনো পদ থেকে সরানো হয়নি। আবার কিছু বিত্তশালী পাকিস্তানপন্থি মানুষ দ্রুত মুক্তিযোদ্ধা সাজে। মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী এই মানুষরা অস্ত্র জমা দিয়ে দেওয়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষতি করা শুরু করে। দেখা যায়, গ্রামের বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং সেই মুক্তিযোদ্ধারা বাধ্য হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। খান আতাউর রহমানের আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩) ছবিতে একটি দৃশ্যে দেখা যায়, অস্ত্র জমা দেওয়ার সরকারি নির্দেশ শুনে এক তরুণ মুক্তিযোদ্ধা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সতীর্থ আরেকজন মুক্তিযোদ্ধাকে দেখিয়ে সে বলে, ‘ঐ যে চুনি, শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানের বাসায় অপারেশন করেছিল। আর আজ সেই বাড়ির ছেলে সিক্সটিন ডিভিশন সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে চুনিকে গুলি করে মারার জন্য। এখনো অন্ধকারের আনাচে কানাচে লুকিয়ে রয়েছে শত্রু।’
মুক্তিযোদ্ধাদের যে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল সেই সার্টিফিকেটও এমন অনেকে পেয়ে যায় যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি। মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী বীরবিক্রম এই প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র ইস্যু ও বিতরণ নিয়ে অনেক অনিয়ম করা হয়। যাচাই না করে ঢালাওভাবে মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র দেওয়া হয় দেশের লোক থেকে শুরু করে ভারতে অবস্থানকারী শরণার্থী পর্যন্ত যুদ্ধে যাদের কোনো প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ অবদান ছিল না।’ মুক্তিযুদ্ধে সাত নম্বর সেক্টরের কমান্ডার কাজী নূর-উজ্জামান লিখেছেন, ‘যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা সোয়া লাখের ওপর হতে পারে না। কিন্তু শোনা যায় ১২ লাখ থেকে ২০ লাখের মতন সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ডজন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ১১ জন ভুয়া।’ যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি এমন অনেকের স্বাধীন দেশে প্রভাবশালী অবস্থান, নকল মুক্তিযোদ্ধাদের দাপট এবং তাদের চিহ্নিত করার ব্যাপারে প্রশাসনের উদাসীনতা, আর রাজনৈতিক যোগাযোগবিহীন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের সুবিধাবঞ্চিত জীবনযাপন প্রভৃতি দিক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছিল ক্ষোভ আর হতাশা। স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন দশকে দুর্নীতি আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী বিভিন্ন কর্মকা-ে আমাদের সমাজ পীড়িত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ ছিল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশে মুক্তিযোদ্ধার মুখোশধারী অসৎ ব্যক্তিদের প্রতাপ বন্ধ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
লেখক অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
